আজকাল ওয়েবডেস্ক: টি-২০ বিশ্বকাপ নিয়ে সমস্যা মেটাতে এবার অন্য পন্থা নিল আইসিসি। পর্দার আড়ালে সমস্যা সমাধানের রাস্তা খুঁজছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। ভেতর ভেতর সেটা শুরুও হয়ে গিয়েছে। একটি সূত্রের খবর অনুযায়ী, ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খোয়াজাকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলাদা করে আলোচনা করতে বলা হয়েছে। সিঙ্গাপুর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। পাকিস্তানকে ভারত ম্যাচ খেলতে রাজি করানোর দায়িত্ব পড়েছে খোয়াজার ওপর। রবিবার পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়, বিশ্বকাপ খেললেও, ভারত ম্যাচ বয়কট করা হবে। যদিও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি আইসিসিকে। সমস্যার সমাধানে এবার খোয়াজাকে শিখণ্ডী করা হচ্ছে।
ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ না খেললে কী শাস্তি হতে পারে সেটা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে জানিয়ে দিয়েছে আইসিসি। ম্যাচ বয়কট করার জন্য আইনি নোটিস পাঠাতে পারে সম্প্রচারকারী চ্যানেল। এছাড়াও একাধিক আর্থিক সমস্যায় পড়বে পিসিবি। আগের সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে বসার আগে বোর্ডের আইনজীবীদের থেকে পরামর্শ নেন পিসিবির প্রধান মহসিন নাকভি। কিন্তু তাসত্ত্বেও গুরুতর শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে বোর্ডকে। পিসিবির এক সূত্র জানান, 'পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে না খেললে, শুধুমাত্র আর্থিক ক্ষতি হবে না, সম্প্রচারকারী চ্যানেল আইনি নোটিস পাঠাতে পারে। সেক্ষেত্রে আইসিসি ডিসপুট রেজোলিউশন কমিটির দ্বারস্থ হওয়ারও কোনও সম্ভাবনা থাকবে না। সরকারের নির্দেশিকা সত্ত্বেও শাস্তির কোপে পড়তে পারে পিসিবি। কারণ চুক্তি অনুযায়ী ভারতে নয়, পাকিস্তান তাঁদের সব ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলছে। দ্বিতীয়ত, ভারতীয় সরকার পাকিস্তানে খেলার অনুমতি না দিলেও, নিরপেক্ষ ভেন্যুতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলা আটকায়নি। মে মাসে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটলেও, এশিয়া কাপ এবং আইসিসি ইভেন্টে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলেছে ভারত।'
প্রসঙ্গত, পাকিস্তান সরকার ভারত ম্যাচ বয়কটের নির্দেশ দিলেও, এই বিষয়ে এখনও আইসিসিকে কিছু জানায়নি পিসিবি। বরং, সমর্থনের জন্য অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ডের দ্বারস্থ হয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। কিন্তু লাভ হয়নি। সূত্রের খবর, পিসিবির পাশে দাঁড়াতে চায়নি অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ড। পাকিস্তানের কোনও লোকাস স্ট্যান্ডি নেই। কোনও আইনি অবস্থানও নেই। পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী বাকি ক্রিকেট বোর্ডগুলো। পাকিস্তানের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সম্প্রতি ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলে পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ দল। সেখানে বয়কটের প্রসঙ্গ ওঠেনি। পাকিস্তানের মেয়েদের দলের ভারতীয় এ দলের বিরুদ্ধে খেলার কথা। এইক্ষেত্রে কোনও আপত্তি জানায়নি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপ থেকে নাম প্রত্যাহারের কোনও ইঙ্গিতও দেওয়া হয়নি। সেখানে শুধুমাত্র বিশ্বকাপে ভারত ম্যাচ বয়কট কেন?
