মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে শোকের ছায়া আরও গভীর করল ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির এক আবেগঘন সিদ্ধান্ত। প্রবীণ নেতা অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর আগে করা শেষ ফোনালাপের অডিও প্রকাশ্যে আনল দল।
2
11
বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর ঠিক আগে তাঁর কণ্ঠে ছিল ঐক্য, সাম্য এবং সব ধর্ম-বর্ণকে সঙ্গে নিয়ে চলার বার্তা। দল মনে করছে, এই বার্তাই মানুষের কাছে পৌঁছানো এখন সবচেয়ে জরুরি।
3
11
৬৬ বছর বয়সি অজিত পাওয়ার গত ২৮ জানুয়ারি মুম্বই থেকে বারামতির উদ্দেশে একটি লিয়ারজেট ৪৫ বিমানে রওনা হয়েছিলেন। স্থানীয় নির্বাচনের আগে নিজের এলাকায় চারটি নির্বাচনী সভায় ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর।
4
11
সকাল প্রায় ৮টা ৪৫ মিনিট নাগাদ বারামতি বিমানবন্দরে অবতরণের সময় দ্বিতীয়বার অ্যাপ্রোচ নেওয়ার সময় আচমকাই দুর্ঘটনায় পড়ে বিমানটি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।
5
11
দুর্ঘটনার আগে তাঁর শেষ ফোনালাপ হয় দলীয় কর্মী শ্রীজিত পাওয়ারের সঙ্গে। দু’জনেই একই গ্রামের বাসিন্দা এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল তাঁদের। শ্রীজিত জানান, তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অজিত পাওয়ারকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। নেটওয়ার্ক কভারেজে আসতেই ‘দাদা’ নিজে তাঁকে ফোন করেন।
6
11
শ্রীজিতের কথায়, “অজিত দাদা বলেছিলেন, আমরা সব জাতি-ধর্মকে সঙ্গে নিয়ে এগোব। কাউকে বাদ দিয়ে রাজনীতি নয়। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই লড়াই করতে হবে।” এই কথাগুলিই এখন অডিও আকারে প্রকাশ করেছে এনসিপি।
7
11
তিনি আরও বলেন, “এই রেকর্ডিং সবার সামনে আনার উদ্দেশ্য একটাই— মহারাষ্ট্র জানুক, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত দাদার চিন্তা ছিল মানুষকে এক করার।”
8
11
বিমানে অজিত পাওয়ার ছাড়াও তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী, এক সহকারী এবং দুই ককপিট ক্রু— পাইলট-ইন-কমান্ড সুমিত কাপুর ও ফার্স্ট অফিসার শম্ভাবী পাঠক— উপস্থিত ছিলেন। দুর্ঘটনায় তাঁদেরও মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গোটা রাজ্য স্তম্ভিত।
9
11
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অজিত পাওয়ার ছিলেন মহারাষ্ট্র রাজনীতির এক প্রভাবশালী মুখ। সংগঠক হিসেবে তাঁর দক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল। তাঁর মৃত্যুতে শুধু এনসিপি নয়, রাজ্যের রাজনৈতিক মহলেও বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
10
11
এই শোকের মধ্যেই দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে এগিয়ে এসেছেন তাঁর স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার। কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণ করানো হয়েছে। দল মনে করছে, অজিত পাওয়ারের অসমাপ্ত কাজ তিনি এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
11
11
শেষ ফোনালাপে উচ্চারিত ঐক্যের বার্তাই যেন আজ তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার— বিভাজনের রাজনীতির বদলে একতার ডাক। আর সেই কণ্ঠস্বরই এখন মহারাষ্ট্রের মানুষের মনে গেঁথে যাচ্ছে গভীর আবেগে।