একসময় সোনা কেনা মানেই ছিল গয়নার দোকানে লাইন, দরদাম আর মাপঝোকের ঝামেলা। এখন সেই ছবি বদলে গেছে। স্মার্টফোনে কয়েকটা ক্লিকেই ১০ টাকা বা ১০০ টাকা দিয়েও সোনা কেনা যাচ্ছে।
2
12
ডিজিটাল গোল্ড বা অ্যাপভিত্তিক সোনা কেনার এই সুবিধাই নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সহজ কেনাকাটাই ধীরে ধীরে বাস্তব সোনার দামে চাপ তৈরি করছে।
3
12
ফিনটেক অ্যাপ, ই-ওয়ালেট ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো এখন “ডিজিটাল গোল্ড” পরিষেবা দিচ্ছে। গ্রাহকরা ছোট অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করলেও সংস্থাগুলি তার সমপরিমাণ আসল সোনা বাজার থেকে কিনে ভল্টে জমা রাখে। অর্থাৎ, অ্যাপে আপনি ভার্চুয়ালভাবে কিনলেও পেছনে কিন্তু বাস্তব সোনার চাহিদা তৈরি হচ্ছে।
4
12
এই চাহিদা বাড়তেই দামের ওপর প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে উৎসবের মরসুম, বিয়ের সিজন বা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে মানুষ বেশি করে সোনা কেনেন।
5
12
আগে যেখানে শুধুমাত্র বড় অঙ্কের বিনিয়োগকারীরাই সোনা কিনতেন, এখন সাধারণ মধ্যবিত্তও প্রতিদিন অল্প অল্প করে কিনতে পারছেন। ফলে বাজারে মোট ক্রেতার সংখ্যা হঠাৎ অনেক বেড়ে গেছে।
6
12
অর্থনীতিবিদদের মতে, চাহিদা বাড়লে দাম বাড়বে—এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে লাখ লাখ ছোট বিনিয়োগকারী একসঙ্গে সোনা কিনলে, আন্তর্জাতিক বাজারেও চাপ পড়ে।
7
12
ভারতে যেহেতু সোনার বড় অংশ আমদানি করতে হয়, তাই ডলার রেট ও আমদানি খরচ মিলিয়ে দামে আরও উর্ধ্বগতি দেখা যায়।
8
12
এছাড়া অ্যাপে সোনা কেনা সহজ হওয়ায় অনেকেই এটিকে সেভিংস বা বিনিয়োগের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে দেখছেন। শেয়ার বাজারের ওঠানামা বা ব্যাংকের সুদের কম হারের তুলনায় সোনা স্থিতিশীল বিকল্প।
9
12
ফলে অনিশ্চিত সময়ে ডিজিটাল গোল্ডের দিকে ঝোঁক বাড়ছে। এতে বাস্তব বাজারে সাপ্লাই কমে গেলে দাম আরও চড়ে যায়।
10
12
তবে ঝুঁকিও আছে। সব ডিজিটাল গোল্ড প্ল্যাটফর্ম সমানভাবে নিয়ন্ত্রিত নয়। গ্রাহকদের উচিত বিশ্বস্ত সংস্থা বেছে নেওয়া এবং বুঝে বিনিয়োগ করা। কারণ, শেষ পর্যন্ত এটি বাস্তব সোনার সঙ্গেই যুক্ত।
11
12
সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রযুক্তি সোনা কেনাকে সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু সেই সহজলভ্যতাই বাজারে অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি করে দামের আগুন তৈরি করছে। ভবিষ্যতে ডিজিটাল গোল্ডের জনপ্রিয়তা যত বাড়বে, বাস্তব সোনার বাজারেও তার প্রভাব ততই স্পষ্ট হবে।
12
12
তাই সোনা কিনতে চাইলে এখন শুধু দামের চার্ট নয়, অ্যাপের ট্রেন্ডও নজরে রাখা জরুরি!