আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র দিন দুয়েক বাকি। কিন্তু বিতর্ক আর পিছু ছাড়ছে কোথায়! একের পর এক বিতর্ক লেগেই রয়েছে।
টিকিট ও লজিস্টিক সমস্যার পর এবার নতুন করে ভিসা ও অভিবাসন জটিলতা ঘিরে একের পর এক বিতর্ক সামনে আসছে। বিভিন্ন দেশের ফুটবলার, কর্মকর্তা ও ম্যাচ অফিসিয়ালদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধার ঘটনা বিশ্ব ফুটবল মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সর্বশেষ বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন আফ্রিকার অন্যতম সেরা ফুটবল রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতান। সোমালিয়ার এই আন্তর্জাতিক রেফারিকে মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে তুরস্কের ইস্তাম্বুল-গামী বিমানে ফেরত পাঠানো হয়।
ঘটনাটি ফুটবলমহলকে বিস্মিত করেছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, আরতান কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিয়ে ভ্রমণ করছিলেন। ভিসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়ায় নাইরোবিতে অবস্থিত সোমালি দূতাবাসও তাঁকে সহায়তা করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত মার্কিন সীমান্ত কর্তৃপক্ষ তাঁকে সেই দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি।
এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সোমালিয়ার প্রধানমন্ত্রী হাসান আলি খাইরে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ''ওমর আরতান আফ্রিকার সেরা রেফারি এবং বিশ্বের অন্যতম সেরা ম্যাচ অফিসিয়াল। ভিসা-সংক্রান্ত কারণে তিনি বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে তা অত্যন্ত হতাশাজনক হবে।''
তিনি আরও বলেন, ''যোগ্যতা, কঠোর পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব ও সততার মাধ্যমে তিনি এই অবস্থানে পৌঁছেছেন। তিনি শুধু সোমালিয়ার নয়, বরং আফ্রিকার লাখো তরুণের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার প্রতীক।''
শুধু আরতানই নন, সম্প্রতি ইরাক জাতীয় ফুটবল দলের সদস্যদেরও একই ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে।
গত ৭ জুন ইরাকের সহ-অধিনায়ক ও তারকা স্ট্রাইকার আইমেন হুসেইনকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় প্রায় সাত ঘণ্টা আটক রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
আইমেন হুসেইনের সঙ্গে দলের আরও একজন ফুটবলার এবং একজন আলোকচিত্রীকেও জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়। পরে হুসেইন ও ওই ফুটবলারকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও দলের আলোকচিত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
ইরানকে ঘিরে তো রয়েছে বিতর্কও। এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় চলতি বছরের ১২ মার্চ। সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে থাকাকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন, ইরান জাতীয় ফুটবল দলের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা উচিত কি না।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প লিখেছিলেন, ''ইরান জাতীয় ফুটবল দল বিশ্বকাপে স্বাগত, তবে তাদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করলে এখানে থাকা কতটা উপযুক্ত, তা নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে।''
পরবর্তীতে ইরান বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানালেও ফিফা সেই দাবি আমল দেয়নি।
এদিকে ইরানের ফুটবলাররা প্রথম ম্যাচের মাত্র ১০ দিন আগে ভিসা পান। ফলে টুর্নামেন্টের আগে প্রস্তুতি ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময় থেকে তাঁরা বঞ্চিত হন।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের অভিযোগ, দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা-সহ বেশ কয়েকজন সদস্য ভিসা পাননি। ফেডারেশনের দাবি, এটি আয়োজক দেশের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা এবং ফিফার নিয়ম লঙ্ঘনের সামিল।
ইরানের রাষ্ট্রদূত জানান, তিজুয়ানায় পৌঁছানো ৭০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের মধ্যে ১৫ জন এখনও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা পাননি।
এই বিষয়ে ফিফার কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও সংস্থাটি কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
বিশ্বকাপ শুরুর প্রাক্কালে একের পর এক ভিসা ও অভিবাসন-সংক্রান্ত জটিলতা আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। আয়োজক দেশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে।
















