আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বকাপের ফাইনাল। আর্জেন্টিনার সামনে স্পেন। এর থেকে বড় মঞ্চ আর কীইবা হতে পারে! এরকম বড় ফুটবল মঞ্চে যখন আলো জ্বলে, তখন শুধু বর্তমানের নায়করা নন, ফিরে আসে ইতিহাসের অমর কাহিনিও। 

 সেই আলোর বৃত্তে জায়গা করে নিল মোহনবাগানের একশো বছরেরও বেশি পুরনো গৌরবগাথা। 

বিশ্বকাপের মঞ্চে উচ্চারিত হল সবুজ-মেরুনের নাম, যে নামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারতের আত্মমর্যাদা, সংগ্রাম আর এক ঐতিহাসিক জয়ের গল্পও।

১৯১১ সাল। ভারত তখন পরাধীনতার শৃঙ্খলে বন্দি। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়ে এগারোজন বাঙালি খালি পায়ে নেমেছিল গোরাদের বিরুদ্ধে ফুটবল যুদ্ধে। মাঠের লড়াই তখন শুধু একটি খেলার লড়াই ছিল না, তা হয়ে উঠেছিল আত্মমর্যাদা, সাহস এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। ইস্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টকে হারিয়ে আইএফএ শিল্ড জয় করেছিল মোহনবাগান। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে যেন এক পরাধীন দেশের বুকেও জেগে উঠেছিল আত্মবিশ্বাসের নতুন সূর্য।

১৯১১-র সেই অমর ইতিহাসের হাত ধরেই বিশ্বকাপের ফাইনালের মঞ্চে মিলল মোহনবাগানের গৌরবের স্বীকৃতি। একশো বছরেরও বেশি আগে যে জয় জাগিয়ে তুলেছিল এক জাতির আত্মবিশ্বাস, সেই কাহিনি আজ আলো ছড়িয়ে গেল বিশ্বকাপের ফাইনালে। 

বিশ্বকাপের মঞ্চে মোহনবাগানের নাম উঠে আসার নেপথ্যে ছিল এক নিবেদিতপ্রাণ প্রচেষ্টা। মোহনবাগানের প্রতি আবেগ হৃদয়ে ধারণ করা গৌরব রায় নিউ ইয়র্ক থেকে আজকাল ডট ইন-কে বলেন, “ফিফা ম্যাচের আগে বিশেষ পরিস্থিতিতে শাউটআউট দেওয়ার সুযোগ দেয়। মূলত নির্দিষ্ট স্লট স্পনসর করা যায়। আমি মোহনবাগানের জন্য এটা করেছিলাম ফাইনালে। কোনও ক্লাব, দেশ বা প্রচারমূলক বিষয় পোস্ট করে না ফিফা, শুধু ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে। কিন্তু আমি ১৯১১ সালের ঐতিহাসিক ঘটনা তুলে ধরেছিলাম।  প্রথমে দু’বার প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলাম। তৃতীয়বার ফিফা অনুমোদন করে।” 

এক শতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে তাই মোহনবাগানের গল্প থেমে নেই। খালি পায়ের সেই এগারোজনের লড়াই আজও পথ দেখায়। কিছু ইতিহাস শুধু লেখা হয় না, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তা বেঁচে থাকে। সবুজ-মেরুনের সেই অমর কাহিনি তাই আজও গর্বের আলো ছড়িয়ে যায় স্পেন-আর্জেন্টিনার ফাইনালের মঞ্চেও।