আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফুটবল ইতিহাসে আরও একটি অবিশ্বাস্য অধ্যায়ের জন্ম দিলেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছরের যুবক এখন আর রেকর্ডের পিছনে ছোটেন না। বরং রেকর্ড তাঁর পিছনে ছোটে। পরিবর্ত হিসেবে নেমে গোল করলেন। আর তাঁর গোলের দিনে আর্জেন্টিনা ৩-১ গোলে হারাল জর্ডনকে। গ্রুপের তিনটি ম্যাচে তিনটিতেই জয়ী নীল-সাদা জার্সিধারীরা।  

জর্ডনের বিরুদ্ধে পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নেমে ফ্রি-কিক থেকে গোল করলেন এলএম ১০। বিশ্বকাপে টানা ৭ ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়লেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। 

এর আগে বিশ্বকাপে টানা ৬ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড ছিল ফ্রান্সের জাঁ ফতেঁ ও ব্রাজিলের জর্জনিহোর। এতদিন তাঁদের সঙ্গে একই ব্র্যাকেটে ছিলেন মেসি। জর্ডনের বিরুদ্ধে গোল করে সবাইকে পিছনে ফেলে এককভাবে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

গোলের খিদে এখনও কমেনি তাঁর। তিনি মাঠে নামার আগে অন্য প্রান্তে মুখোমুখি হয়েছিল পর্তুগাল ও কলম্বিয়া। সেই ম্যাচে নিষ্প্রভ ছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। কিন্তু মেসি এখনও ছটফটে। এখনও তিনি মাঠে নামা মানেই  জাদুকরী কিছু মুহূর্ত। পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামার মুহূর্তটাও ছিল দারুণ। মেসি-নামে সবাই মাতোয়ারা। স্ত্রী আন্তোনেলা হাততালি দিচ্ছেন। তাঁর মুখে কয়েক হাজার ওয়াটের আলো। কে বলবে মেসি নামার আগের মুহূর্তেই আর্জেন্টিনা গোল হজম করেছে। 

ম্যাচের আগেরদিন আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি জানিয়েছিলেন, মেসিকে শুরু থেকে খেলানো হবে না। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী বেঞ্চেই ছিলেন তিনি। ৫৯ মিনিটে মাঠে নামেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। নেমেই বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি কিক পেয়েছিলেন। সেটা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। কিন্তু দ্বিতীয় ফ্রি কিক  থেকে গোল করে যান জাদুকর। জর্ডনের গোলকিপার নড়তেও পারলেন না। আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায় ৩-১-এ। শেষ পর্যন্ত সেটাই দাঁড়াল খেলার ফলাফল।

মেসি নেই শুরু থেকে। কে গোল করবেন আর্জেন্টিনার হয়ে? এটাই ছিল দেখার। ১৯ মিনিটে জিওভানি লো সেলসোর দুর্দান্ত ফ্রি-কিক এগিয়ে দেয় আর্জেন্টিনাকে। পরে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়ান লাওতারো মার্তিনেজ। ৫৫ মিনিটে মুসা আল-তামারি জর্ডনের হয়ে একটি গোল শোধ করলেও, শেষ পর্যন্ত মেসির অসাধারণ ফ্রি-কিকই ম্যাচে শেষ কথা বলে। সেলসোর দুর্দান্ত ফ্রি কিক, আর্জেন্টিনার জয়ের ধারা মলিন হয়ে গেল মেসির গোলের কাছে।   

বিশ্বকাপের মঞ্চে একের পর এক রেকর্ড গড়া মেসি আরও একটি অনন্য ইতিহাস রচনা করলেন। বিশ্বকাপের টানা ৭ ম্যাচে গোল, যে কীর্তি এর আগে স্পর্শ করতে পারেননি বিশ্বের আর কোনও ফুটবলার। চলতি বিশ্বকাপে এটি তাঁর ষষ্ঠ গোল। প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক, দ্বিতীয় ম্যাচে জোড়া গোলের পর এদিন এক গোল। মেসির কক্ষপথে পা রাখা যে সহজ কথা নয়! মেসিকে দেখে বলাই যায়, এ-পৃথিবী একবার পায় তারে, পায় নাকো আর।