আজকাল ওয়েবডেস্ক: গ্রুপ পর্বের সম্ভবত সবথেকে হেভিওয়েট ম্যাচ। আর খেলাটা হলও সেই হেভিওয়েটের মতোই। উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে ফর্মে ফিরেছিলেন রোনাল্ডো।

এদিন সেই ঝলক দেখা গেল না। বরং, গোটা পর্তুগাল দলটা এদিন ঝিমিয়ে রইল। আক্রমণে তেজ তো নেই, উল্টে গোটা ম্যাচ জুড়ে দাপাদাপি দেখা গেল কলম্বিয়ারই। পর্তুগিজ রক্ষণে বারবার ফাঁকফোকর দেখা গেল এদিন।

নক আউটে শক্তিশালী দল সামনে পড়লে স্ট্র্যাটেজি নিয়ে যথেষ্ট হোমওয়ার্ক করার দরকার আছে রবার্তো মার্টিনেজের। শুরু থেকেই পর্তুগিজ রক্ষণে কার্যত ঝড় তোলেন লুইস ডিয়াজ, হামেস রদ্রিগেজ।

কিন্তু আক্রমণ তৈরি হল ওইটুকুই। ম্যাচের ৬০-৭০ মিনিট পর্যন্ত সুযোগ নষ্টের বন্যা দেখা গেল দুই দলের তরফেই। এই ম্যাচের আগে কলম্বিয়ার ঝুলিতে ছিল দুই ম্যাচে ছ’পয়েন্ট।

অন্যদিকে, পর্তুগালের ঝুলিতে ছিল চার পয়েন্ট। এদিন রেকর্ড গড়ার সুযোগ ছিল রোনাল্ডোর কাছেও। এদিন দুটি বা তার বেশি গোল করতে পারলে এক বিশ্বকাপের একাধিকবার জোড়া গোল করা সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়তে পারতেন তিনি।

কিন্তু তুলনামূলক শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জ্বলে উঠতে পারলেন পর্তুগিজ সুপারস্টার। কলম্বিয়ার রক্ষণ কার্যত বোতলবন্দি করে রাখল তাঁকে। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ওঠে ‘লস কাফেতেরোস’।

স্যাঞ্চেজের বাড়ানো লং বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে লুইস দিয়াজ ভিতরে ঢুকে শট নেন। বল ডিফ্লেক্ট হয়ে পৌঁছে যায় জন কর্ডোবার কাছে, কিন্তু তাঁর হেড পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়।

এরপর জোন আরিয়াস তাঁর দুরন্ত গতি নিয়ে পর্তুগাল বক্সে ঢুকলেও সুযোগ তৈরি হয়েছিল আরও একটা। তাঁর নিখুঁত পাস থেকে কর্ডোবার জোরালো শট অসাধারণ দক্ষতায় আটকান পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কোস্তা।

পর্তুগাল রক্ষণ এদিন পরপর পরীক্ষার মুখে পড়েছে। ম্যাচের প্রথম কোয়ার্টারে হামেস রদ্রিগেজ ডান দিক থেকে দারুণ মুভ তৈরি করে বল বাড়ান আরিয়াসকে। তাঁর শট গোললাইন থেকে অবিশ্বাস্যভাবে ক্লিয়ার করেন রুবেন নেভেস।

নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দলকে ম্যাচে রাখেন তিনি। তবে প্রথমার্ধের শেষদিকে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে পর্তুগাল। ৩৯ মিনিটে আসে তাদের সেরা সুযোগ। জোয়াও ক্যানসেলোর মাইনাস থেকে বল পৌঁছে যায় ফাঁকায় দাঁড়ানো ব্রুনো ফার্নান্দেজের সামনে।

কিন্তু তাঁর শট দুর্দান্ত সেভ করেন কলম্বিয়ার গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাস। যদিও গোল ফাঁকা থাকতে কিপারের হাতেই মারেন ব্রুনো। রিবাউন্ডে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর ওভারহেড কিকও ব্লক হয়ে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেও একাধিক সুযোগ তৈরি করেছিল পর্তুগাল। বিরতিতে ক্যানসেলো এবং রুবেন নেভেসকে বসিয়ে মার্টিনেজ মাঠে নামান দিয়েগো ড্যালট এবং জোয়াও নেভেসকে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পর্তুগাল যা একটু কলম্বিয়া রক্ষণে কাঁপুনি ধরাতে পেরেছিল। ৭০ মিনিট থেকে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত লাতিন আমেরিকার দেশ যা খেলল তা অন্য টিমকেও চিন্তায় ফেলে দেবে।

৮৯ মিনিটে নিশ্চিত গোল থেকে পর্তুগালকে বাঁচান রুবেন দিয়াজ। কলম্বিয়ান রাইট ব্যাক ড্যানিয়েল মুনোজের ক্রস ডিফ্লেক্ট হয়ে ফার পোস্টের দিকে যাচ্ছিল। ঠিক সেখানেই লুইস দিয়াস গোল করার জন্য প্রস্তুত হয়ে অপেক্ষা করছিলেন।

কিন্তু তাঁর সামনে দাঁড়ানো রুবেন দিয়াজ বলে মাথা ছুঁইয়ে তা ক্লিয়ার করেন। ঠিক তারপরেই অতিরিক্ত সময়ে কুইন্টারোর মাপা ক্রস থেকে পেছনের পোস্টে থাকা স্যাঞ্চেজ হেড করে পরাস্ত করেন দিয়োগো কোস্তাকে।

কিন্তু তাঁর গোল অফসাইডের জন্য বাতিল হয়ে যায়। পরে ভারে দেখা যায় জুতোর নখের অংশটুকু লাইনের বাইরে ছিল। এই ড্রয়ের পর পর্তুগাল তাদের গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করল।

ফলে, কোয়ার্টার ফাইনালে যে মেসি-রোনাল্ডো দেখার দ্বৈরথ দেখায় আশায় বুক বাঁধছিলেন সমর্থকরা তা আর হওয়ার সম্ভাবনা নেই। দুই দলের দেখা হলে একমাত্র ফাইনালেই হতে পারে।

রাউন্ড অফ ৩২-এ পর্তুগালের মুখোমুখি ক্রোয়েশিয়া। ভারতীয় সময় আগামী ৩ জুলাই অর্থাৎ শুক্রবার ভোর ৪.৩০ নাগাদ মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদে দীর্ঘদিনের সতীর্থ ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো এবং লুকা মদ্রিচ।