আজকাল ওয়েবডেস্ক: চলতি বিশ্বকাপে দুরন্ত ছন্দে রয়েছে আর্জেন্টিনা। টানা তিন ম্যাচে জয়, আর প্রতিটি ম্যাচেই গোল করে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপে টানা সাতটি ম্যাচে গোল করে তিনি গড়েছেন এক অনন্য নজির। আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক বাঙালিরও স্মৃতি, যে স্মৃতির স্থান হয়েছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ফুটবল সংগ্রহশালায়।
কে তিনি? তিনি ভারতের প্রাক্তন ফুটবলার কৃষ্ণেন্দু রায়। তাঁর পরা ভারতের ১২ নম্বর জার্সি সংরক্ষিত রয়েছে মাদ্রিদের বিখ্যাত সংগ্রহশালা লিজেন্ডস: দ্য হোম অব ফুটবল-এ। ঐতিহাসিক পুয়ের্তা দেল সল এলাকায় অবস্থিত এই সংগ্রহশালাটি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই সংগ্রহশালায় আর কোনও ভারতীয় ফুটবলারের স্মারক নেই। দেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে স্থান করে নিয়েছে কৃষ্ণেন্দু রায়ের সেই ঐতিহাসিক জার্সি।
বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাস বহনকারী এই আধুনিক জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে পাঁচ হাজারেরও বেশি দুর্লভ স্মারক। সেখানে যেমন রয়েছে দিয়েগো মারাদোনার কিংবদন্তি ১০ নম্বর জার্সি, তেমনই তার পাশেই শোভা পাচ্ছে ভারতের ১২ নম্বর জার্সি, যা একসময় গায়ে চাপিয়েছিলেন কৃষ্ণেন্দু।
এই গল্পের শুরু ১৯৮৪ সালে। নেহরু কাপে ভারতের প্রতিপক্ষ ছিল আর্জেন্টিনা। দলের কোচ ছিলেন কার্লোস বিলার্দো। যদিও মারাদোনা সেই দলে ছিলেন না, তবুও মাঠে নেমেছিলেন হর্হে বুরুচাগা, নেরি পুম্পিদো, রিকার্দো গারেকা-র মতো তারকারা।
সেই ম্যাচে ভারতের হয়ে ১২ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নেমেছিলেন কৃষ্ণেন্দু রায়। প্রবল লড়াই সত্ত্বেও ম্যাচের শেষ মুহূর্তে রিকার্দো গারেকার একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে হার মানতে হয় ভারতকে।
ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার ফুটবলার নেস্টর ক্লাসেনের সঙ্গে জার্সি বিনিময় করেছিলেন কৃষ্ণেন্দু। সেই জার্সিটিই বহু বছর পরে খুঁজে পাওয়া যায় মাদ্রিদের ফুটবল জাদুঘরে। আজও যা ইতিহাসের এক মূল্যবান দলিল।
আবেগাপ্লুত কৃষ্ণেন্দু রায় বলেন, "আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে দেশের হয়ে মাঠে নামাটাই ছিল জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। আর সেই ম্যাচের জার্সি যে একদিন বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ফুটবল সংগ্রহশালায় স্থান পাবে, তা কখনও কল্পনাও করিনি।''
ময়দানের সবার প্রিয় 'বান্টুদা'-র কথায়, এটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সম্মান নয়, ভারতীয় ফুটবলেরও এক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
১৯৮৪ সালের সেই নেহরু কাপের ম্যাচের পর কেটে গিয়েছে ৪২ বছর। বদলে গিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্র, পাল্টেছে প্রজন্ম, এসেছে নতুন নতুন কিংবদন্তি। কিন্তু কৃষ্ণেন্দু রায়ের সেই লড়াই, দেশের জার্সি গায়ে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে মাঠে নামার গর্ব এবং ম্যাচ শেষে জার্সি বিনিময়ের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত আজও সমান উজ্জ্বল।
এ কেবল একজন ফুটবলারের ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়। এটি বাংলার ফুটবল ঐতিহ্যের গর্ব, ভারতীয় ফুটবলের মর্যাদা এবং বিশ্বমঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার এক অনন্য ইতিহাস। কৃষ্ণেন্দু রায়ের ১২ নম্বর জার্সি আজ মনে করিয়ে দেয়, স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং দেশের হয়ে লড়াইয়ের মূল্য কখনও বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যায় না। বরং সময়ের সঙ্গে তা ইতিহাস হয়ে বেঁচে থাকে।














