আজকাল ওয়েবডেস্ক: একদিন এক কিশোরের হৃদয় ভেঙে গিয়েছিল। চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি তিনি। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদেছিলেন, কারণ তাঁর কাছে লিওনেল মেসি শুধু একজন ফুটবলার ছিলেন না, ছিলেন স্বপ্নের আরেক নাম, অনুপ্রেরণার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

২০১৬ সালের সেই রাত। কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে হারের পর যখন লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার জার্সি তুলে রাখার ঘোষণা করলেন, তখন শুধু একটি দলের নয়, ভেঙে গিয়েছিল কোটি মানুষের হৃদয়। আর্জেন্টিনার প্রতিটি মানুষ হতবাক হয়ে ভাবছিলেন, হঠাৎ কেন এমন সিদ্ধান্ত? কেনই বা তাঁদের প্রিয় অধিনায়ক বিদায় নিতে চাইছেন? 

সেই কোটি সমর্থকের ভিড়ে ছিলেন এক ছোট্ট কিশোর। তাঁর নাম এনজো ফার্নান্দেজ। মেসির প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল নিখাদ, বিশ্বাস ছিল অটুট। তাই কলম তুলে নিয়েছিলেন তিনি। ছোট্ট হৃদয়ের সমস্ত আবেগ দিয়ে লিখেছিলেন তাঁর প্রিয় নায়ককে, “লিও, ফিরে এসো তুমি।”

সময় বদলেছে। সেই কিশোর আজ বড় হয়েছেন, পৌঁছে গিয়েছেন বিশ্বফুটবলের মঞ্চে। লিোনেল স্কালোনির অন্যতম অস্ত্রও বটে। যে মেসিকে একদিন ফিরে আসার অনুরোধ জানিয়েছিলেন, আজ সেই এনজোই হয়ে উঠলেন তাঁর দলের বিপর্যয়ের কারণ। 

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে তাঁর দুর্দান্ত গোলে আর্জেন্টিনা সমতায় ফিরেছিল। কিন্তু স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনালে গল্পটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। 

নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হতে আর অল্প কিছুক্ষণ বাকি, ঠিক তখনই দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হল এনজো ফার্নান্দেজকে। লাল কার্ডের শাস্তিতে আর্জেন্টিনা নেমে গেল দশ জনে।

এরপর শুরু হল এগারোর বিরুদ্ধে দশ জনের অসম লড়াই। অতিরিক্ত সময়জুড়ে স্পেনের টিকিটাকা যেন নদীর স্রোতের মতো আছড়ে পড়তে লাগল আর্জেন্টিনার রক্ষণে। একের পর এক আক্রমণ সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল নীল-সাদা শিবির। গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ অসাধারণ কিছু সেভ করে দলকে বারবার বাঁচালেও শেষ পর্যন্ত ভাগ্যকে আর আটকানো গেল না।

ফেরান তোরেসের গোলেই স্পেনের হাতে উঠল চ্যাম্পিয়নের ট্রফি। আর মাঠ ছাড়ার পর নিজের ভুল বুঝতে পেরে নীল-সাদা সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন এনজো ফার্নান্দেজ। 

যে ছেলে একদিন মেসিকে বলেছিল, “লিও, ফিরে এসো, আজ সেই ছেলেই অজান্তে মেসির হৃদয় ভেঙে দিলেন। মেসি কাঁদলেন। ফুটবল যে কতটা নির্মম, আবার কতটা আবেগের, এনজো ফার্নান্দেজের এই গল্প যেন তারই এক জীবন্ত উদাহরণ।