আজকাল ওয়েবডেস্ক: একসময় ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে সামলাতে প্রতিপক্ষের রাতের ঘুম উবে যেত। সিআর সেভেনকে থামানোর জন্য করতে হতো আলাদা কৌশল। সেই সময় হয়তো পেরিয়ে গিয়েছে। এবারের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেয়েছে পর্তুগাল। কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ গোলে খেলা শেষ করেছে পর্তুগাল। আর তার পরই কঙ্গোর মিডফিল্ডার মুকাউ যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাতে মনে হওয়াই স্বাভাবিক রোনাল্ডো এখন আর আগেরমতো ভীতিপ্রদ নয়। 

পর্তুগাল-কঙ্গো ম্যাচের শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুকাউ জানান, পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে থামাতে তাঁদের বিশেষ কোনও পরিকল্পনা ছিল না। কঙ্গোর তারকার মতে ৪১ বছর বয়সী রোনালদো আর আগের মতো ভয়ঙ্কর নন। 

মুকাউ বলেন, ''আমরা রোনাল্ডোকে নিয়ে আলাদা কোনও পরিকল্পনা করিনি। আমরা জানি, রোনাল্ডো আর আগের মতো নেই। বয়স হয়েছে। তারপরেও রোনাল্ডো ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার। ওর প্রতি আমার সম্মান রয়েছে।''

রোনাল্ডো নিয়ে ফের প্রশ্ন করা হলে নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন কঙ্গোর এই ফুটবলার। তিনি বলেন, ''বয়স বাড়লে আগের মতো একই মাত্রার পরিশ্রম বা গতি ধরে রাখা সম্ভব হয় না। কিন্তু তবুও রোনাল্ডো ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়।''

ডিআর কঙ্গোর জন্য ম্যাচটি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭৪ সালে জাইরে নামে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপের মঞ্চে পয়েন্ট পেল দেশটি। আর সেই পয়েন্ট এসেছে পর্তুগালের মতো দলের বিরুদ্ধে। 

?ref_src=twsrc%5Etfw">June 17, 2026

রোনাল্ডোর জন্য ম্যাচটি ছিল হতাশাজনক। পুরো ম্যাচে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে দু'টি সুযোগ হাতছাড়া করেন পর্তুগাল অধিনায়ক। একটি সুযোগ নষ্ট হওয়ার পরে সতীর্থ ব্রুনো ফার্নান্দেজকে হতাশ দেখায়।

পরিসংখ্যানও রোনাল্ডোর হয়ে কথা বলছে না। ম্যাচে মাত্র ২৫ বার বল ছোঁন রোনাল্ডো।  যা ৪৫ মিনিটের বেশি খেলা পর্তুগিজ ফুটবলারদের মধ্যে সর্বনিম্ন। এছাড়া বিশ্বকাপ ও ইউরোর মতো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট মিলিয়ে টানা ১০ ম্যাচ ধরে গোলশূন্য কিংবদন্তি ফুটবলার। 

তবে ম্যাচ শেষে হতাশ না হয়ে আশাবাদী থাকার বার্তা দিয়েছেন রোনাল্ডো। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, ''এরকম শুরু আমরা চাইনি। সবকিছু এখনও শেষ হয়ে যায়নি। মাথা উঁচু রাখতে হবে এবং পরের ম্যাচের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।''