আজকাল ওয়েবডেস্ক: লিওনেল মেসি শুরুতেই চমকে দিয়েছেন। হ্যাটট্রিক করে তিনি চমকে দিয়েছেন। আমেরিকায় পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আরও একবার মাস্টারস্ট্রোক হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে মেসির। যদি তিনি আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জেতাতে পারেন।
২০২৩ সালে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই সব পক্ষের জন্য লাভজনক হয়েছে মেসির কাছে। মেসির আগমনে যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে, ক্লাব পেয়েছে একাধিক সাফল্য এবং মেসিও নিজের বর্ণময় কেরিয়ারে যোগ করেছেন নতুন এক অধ্যায়।
তবে সবচেয়ে বড় লাভবান হতে পারে আর্জেন্টিনা। ৩৮ বছর বয়সেও নিজের শেষ বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসি এখনও অসাধারণ ছন্দে রয়েছেন।
তাঁর সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব এবং গোল করার ক্ষমতা আবারও আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে।
আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, ''লিও যতদিন চাইবে, ততদিনই সেরা থাকবে। গত ২০ বছর ধরে সে প্রতিটি ম্যাচেই তা প্রমাণ করে আসছে।''
থিয়েরি অঁরি আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে মেসির হ্যাটট্রিকের পর তাঁকে আকাশছোঁয়া প্রশংসা করে বলেন, ''লিও একেবারেই আলাদা। ওকে অন্য কারও সঙ্গে তুলনা করা যায় না।''
বিশ্বকাপের মঞ্চে এটাই ছিল মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক। একই সঙ্গে তিনি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোজের ১৬ গোলের রেকর্ড ছুঁয়েছেন।
মেসি বলেন,''আমি নিজেকে সেরা প্রস্তুত করার চেষ্টা করেছি, যাতে শারীরিকভাবে ভাল থাকি, দলের জন্য কার্যকর হতে পারি এবং সাহায্য করতে পারি।''
বাস্তবে তাঁর অবদান এর থেকেও অনেক বেশি। আগের বিশ্বকাপের পর তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সেটিই হয়তো তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। কিন্তু এবারও তিনি আর্জেন্টিনার আক্রমণের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছেন।
আমেরিকা যাওয়ার পরও হারাননি ছন্দ।
ইউরোপের কঠিন প্রতিযোগিতা ছেড়ে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে যোগ দেন মেসি।
যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রতিযোগিতার মানও ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর তুলনায় কিছুটা কম ছিল। তবে অতিরিক্ত ম্যাচের চাপ এবং ব্যস্ত সূচির কারণে অনেক তারকা ফুটবলার যেখানে ক্লান্তির কথা বলছেন, সেখানে মেসির ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন যেন ইতিবাচক হয়েছে।
বার্সেলোনার সময় যেখানে তাঁকে এক মরশুমে ৫০টিরও বেশি ম্যাচ খেলতে হতো, যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কম ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এর ফলে শরীর ও মানসিকভাবে সতেজ থাকার সুযোগ পেয়েছেন।
বিশ্বকাপের শুরুতেই তাঁর পারফরম্যান্স প্রমাণ করেছে, ইউরোপের মতো প্রতিনিয়ত বিশ্বের সেরা ডিফেন্ডারদের মুখোমুখি না হলেও তাঁর ধার, সৃজনশীলতা এবং ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা এখনও অটুট।
মেসির আমেরিকা যাত্রা তাই শুধু একটি ক্লাব পরিবর্তন নয়, এটি হয়তো আর্জেন্টিনার আরেকটি বিশ্বকাপ অভিযানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়ে উঠতে পারে।















