আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফিফা বিশ্বকাপ মানেই বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর এক উন্মাদনা। কিন্তু ২০২৬ সালের উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের টিকিট মূল্যের যে চিত্র সামনে এসেছে, তা সাধারণ ফুটবল ভক্তদের জন্য এক বিরাট ধাক্কা। বিশেষ করে ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের সাধারণ মানুষের কাছে মাঠের গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার স্বপ্নটা এখন আকাশকুসুম কল্পনার শামিল। একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষা ও প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের সবচেয়ে দামি ক্যাটাগরির একটি টিকিট কিনতে একজন গড় ভারতীয়কে তার প্রায় ২০ মাসের পুরো আয় সঞ্চয় করতে হবে।
আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই মেগা টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচের প্রিমিয়াম টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৫৯৮ মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যা এক বিশাল অঙ্কের সমান। ফুটবল যেখানে ঐতিহাসিকভাবে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের খেলা হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখানে এই ধরণের আকাশচুম্বী মূল্য নির্ধারণ খেলাটিকে একটি অতি-বিলাসবহুল পণ্যে পরিণত করছে। গত দু-তিন দশকে ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম যেভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে, তা সত্যিই নজিরবিহীন। ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে যেখানে ফাইনালের সর্বোচ্চ টিকিটের দাম ছিল প্রায় ৪৭৫ ডলার, তা ২০০৬ সালে জার্মানিতে দাঁড়ায় ৬৬০ ডলারে। এমনকি গত ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও এই মূল্য ছিল প্রায় ১ হাজার ৬০৬ ডলার। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে সেই দাম এক ধাক্কায় কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্ব ক্রীড়া বাণিজ্যের এক আগ্রাসী রূপকে প্রকাশ করে।
অবশ্য শুধু ফাইনালের টিকিটই নয়, গ্রুপ পর্ব বা নকআউট পর্বের ভালো ম্যাচগুলোর টিকিটের দামও সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এর ওপর আবার যোগ হবে তিন দেশের মধ্যে যাতায়াত, বিমান ভাড়া এবং হোটেল থাকার বিপুল খরচ। সব মিলিয়ে হিসাব করলে দেখা যায়, ফুটবল বিশ্বকাপ এখন আর কেবল খেলা দেখার উৎসব নেই, তা হয়ে উঠেছে করপোরেট আভিজাত্য আর বিশ্বজনীন ধনকুবেরদের একচেটিয়া বিনোদন ক্ষেত্র। মাঠের সেই চেনা আবেগ আর গ্যালারির আদিম চিৎকারকে একরকম কর্পোরেট দেয়াল তুলে বন্দি করে ফেলা হচ্ছে। ফলে ভারতের মতো দেশের কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের জন্য টিভির পর্দাই এখন একমাত্র ভরসা, কারণ মাঠের ঘাসে বসে প্রিয় দলের হয়ে গলা ফাটানোর সুযোগটা এখন সাধারণের পকেট থেকে অনেক দূরে চলে গেছে।















