আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনের স্বপ্ন ভেঙে গেলেও দেশে ফিরে বীরের সম্মান পেলেন সোমালিয়ার তারকা ফুটবল রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতান।
বুধবার রাজধানী মোগাদিসুর আদেন আবদুলে ওসমান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে ভিড় জমান শত শত সমর্থক, ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তারা এবং সরকারি প্রতিনিধিরা।
বিমানবন্দর জুড়ে ছিল উচ্ছ্বাসের আবহ। ব্যানার হাতে সমর্থকরা আরতানের নাম ধরে স্লোগান দেন। হতাশাজনক প্রত্যাবর্তন মুহূর্তেই পরিণত হয় জাতীয় গর্বের উদযাপনে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরতান বলেন, '' আমি আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে পরবর্তী বিশ্বকাপে অবশ্যই উপস্থিত থাকব। সোমালিয়ার জনগণ যেন এতে হতাশ না হন এবং আত্মবিশ্বাস ধরে রাখেন।''
আফ্রিকার অন্যতম সেরা ম্যাচ অফিসিয়াল হিসেবে পরিচিত আরতান ২০২৫ সালে কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবলের বর্ষসেরা রেফারির সম্মান পান। ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য তাঁর নির্বাচন ছিল ঐতিহাসিক, কারণ তিনিই প্রথম সোমালি নাগরিক যিনি ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে রেফারিংয়ের দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।
তবে গত সপ্তাহান্তে ইস্তানবুল থেকে মায়ামিতে পৌঁছানোর পর মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন কর্মকর্তারা তাঁকে আটকে দেন। বৈধ ভিসা ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও প্রায় ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। পরে তুরস্কগামী একটি বিমানে ফেরত পাঠানো হয়।
এরপর আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সোমালিয়া সরকার ওয়াশিংটন ও ফিফার সঙ্গে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আলোচনা চালালেও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করাতে পারেনি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলে, ''আরতানের আন্তর্জাতিক সাফল্য সোমালি জনগণের জন্য গর্ব ও সম্মানের বিষয়।''
সোমালি ফুটবল ফেডারেশন গভীর হতাশা প্রকাশ করে জানায়, বছরের পর বছর নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও সততার মাধ্যমে অর্জিত এই সাফল্য দেশের ফুটবলের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। পাশাপাশি তারা অভিযোগ করে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
এদিকে ফিফা জানিয়ে দিয়েছে, মায়ামিতে আয়োজিত কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নিতে না পারায় আরতানকে বিশ্বকাপের রেফারিদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
তবে সোমালিয়ার সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি ব্যাখ্যা বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত যুক্তির চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে আরতানের অর্জন। দেশে ফেরার পর সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যখন তিনি মোগাদিসুর রাস্তায় এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন একটাই বার্তা স্পষ্ট ছিল,বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও নিজের দেশে তিনি এখনও একজন চ্যাম্পিয়ন।















