আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বকাপের পরই অবসর নিতে পারেন রিয়াল মাদ্রিদের বেলজিয়ান তারকা থিবো কুর্তোয়া। ৩৪ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে বেলজিয়ামের গ্রুপ ‘জি’-এর প্রথম ম্যাচের আগে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমনটাই জানান।

বেলজিয়াম বর্তমানে ট্রানজিশনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতেই এমন মন্তব্য করেছেন থিবো কুর্তোয়া। দলের তথাকথিত ‘গোল্ডেন জেনারেশন’-এর বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ফুটবলার যার মধ্যে রয়েছেন কেভিন ডি ব্রুইনের মতো তারকাও, তাঁরা নিজেদের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন।

কুর্তোয়া বলেন, ‘এই মুহূর্তে ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা ঠিক হবে কি না জানি না। তবে এই টুর্নামেন্টের পর আমার জাতীয় দলে খেলার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে আমি এখনও কয়েক বছর ফুটবল খেলতে চাই। কিন্তু শরীরেরও যত্ন নিতে হয়। আমার পরিবার এখানে রয়েছে। কারণ এটা আমার শেষ ফিফা টুর্নামেন্টও হতে পারে।’

তবে তিনি আন্তর্জাতিক কেরিয়ার চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। তাঁর মতে, বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের পারফরম্যান্স এবং টুর্নামেন্ট-পরবর্তী আলোচনা এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, ‘যদি আমরা বিশ্বকাপে ভাল খেলি এবং দলের মধ্যে ইতিবাচক পরিবেশ বজায় থাকে, তাহলে বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনা করব। এরপর কোচ, টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ভিনসেন্ট মানার্ট এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

২০১১ সালে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেকের পর থেকেই কুর্তোয়া বেলজিয়ামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ইতিমধ্যেই, তিনি শতাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ফেলেছেন।

বড় টুর্নামেন্টগুলোতে দলের সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর চিন্তার কারণ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ের চোট-আঘাত এবং শারীরিক চাপের বিষয়টিও তুলে ধরেন এই গোলরক্ষক।

কুর্তোয়া বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বিরতির সময় কিছুটা বিশ্রাম নেওয়া যায় এবং জিমে শান্তভাবে কাজ করা সম্ভব হয়। গত দেড় বছরে আমি বেশ কিছু ছোটখাটো চোট ও শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। তখন স্বাভাবিকভাবেই ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে হয়েছে। আমি নতুন প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার কথা বিবেচনা করছি। সেনে ল্যামার্স ও মাইক পেন্ডার্সের মতো প্রতিভাবান গোলরক্ষক উঠে আসছে।’

তবে এবার চোট কাটিয়ে ফিরলেও নিজের প্রস্তুতি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কুর্তোয়া। মিশরের বিরুদ্ধে নামার আগে তিনি বলেন, ‘আমি এবং দলের বাকিরা ভীষণভাবে উদগ্রীব। মাঠে নামার অপেক্ষায় আছি। কামব্যাকের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি। কোয়াড্রিসেপসের চোটটি দুর্ভাগ্যজনক ছিল। তবে আমি নিজের সেরাটা ধরে রাখতে এবং সম্পূর্ণ মনোযোগী থাকতে প্রস্তুত।’

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ মিশর, ইরান ও নিউজিল্যান্ড। অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে এবার দল গড়েছে বেলজিয়াম।