আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন মুলুকে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নামার আগে প্রয়াত দিয়েগো জোটাকে বিশেষভাবে শ্রদ্ধা জানাতে চলেছে পর্তুগাল। প্রয়াত পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড দিয়োগো জোটার স্মৃতিতে বিশেষ রিস্টব্যান্ড পরে বিশ্বকাপের ম্যাচে নামবেন পর্তুগিজ ফুটবলাররা।

দলের মিডফিল্ডার ভিটিনহা জানিয়েছেন, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর বিরুদ্ধে গ্রুপ কে-র প্রথম ম্যাচ থেকেই এই বিশেষ ব্যান্ড পরে খেলবেন তাঁরা। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রো ইতিমধ্যেই দলের হাতে এই বিশেষ রিস্টব্যান্ড তুলে দিয়েছেন।

সেই রিস্টব্যান্ডে স্কোয়াডে থাকা সব ফুটবলারের নামের পাশাপাশি রয়েছে দিয়োগো জোটার নামও। উল্লেখ্য, গত বছর উত্তর-পশ্চিম স্পেনে এক পথ দুর্ঘটনায় ভাইয়ের সঙ্গে মৃত্যু হয় জোটার।

পর্তুগালের হয়ে ৪৯টি ম্যাচ খেলে ১৪টি গোল করেছিলেন জোটা। জাতীয় দলের সতীর্থদের কাছে এখনও তিনি অত্যন্ত প্রিয়। বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর স্মৃতি ধরে রাখতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে দল।

রয়টার্সকে ভিটিনহা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি আমাদের এই রিস্টব্যান্ডটি দেন। এটা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে আমরা মাঠে পরতে পারি। এতে সব খেলোয়াড়ের নাম রয়েছে, আর রয়েছে বিশেষ নাম দিয়োগো জোটা।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা আমরা ব্যবহার করব কি না, করলে কীভাবে ব্যবহার করব সেই সিদ্ধান্ত আমাদের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। আমরা অত্যন্ত ভালবাসার সঙ্গে এটি গ্রহণ করেছি। ম্যাচে আমরা এটা পরে নামব সেই সিদ্ধান্তও নিয়েছি।’

উল্লেখ্য, বুধবার বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে পর্তুগাল। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর দল এবারও টুর্নামেন্টে বড় প্রত্যাশা নিয়ে নামছে। দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ভিটিনহা মনে করছেন, প্রতিভা থাকলেও সাফল্যের জন্য প্রয়োজন মাটিতে পা রেখে ম্যাচ ধরে এগোনো।

পিএসজি মিডফিল্ডার বলেন, ‘আমি বলব না যে আমরা ফেভারিট। আমাদের দলে অনেক প্রতিভা রয়েছে এবং অনেক দূর যাওয়ার ক্ষমতা আছে। কিন্তু সঠিক পথ হল ডাউন টু আর্থ থাকা এবং সঠিক ফুটবল খেলা।’

কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর বিরুদ্ধে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল পর্তুগাল। এবার আরও ভাল ফল করার লক্ষ্য নিয়ে নামছে দল। ভিটিনহার মতে, প্রতিভার পাশাপাশি টেকনিক্যাল ও ট্যাকটিক্যাল দিকগুলির সমন্বয়ই সাফল্যের চাবিকাঠি হবে।

এবারের বিশ্বকাপ তিনটি দেশে আয়োজিত হওয়ায় আলাদা চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করেছেন ভিটিনহা। তাঁর মতে, ভ্রমণের চাপ এবং বিভিন্ন জায়গার আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াও দলগুলির জন্য বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।