আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে উত্তর আমেরিকায় এখন তুমুল উন্মাদনা। চার বছরে একবার আসে এই ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। আর এবার ৪৮ দলের ঐতিহাসিক আসর একযোগে হচ্ছে তিন দেশে—আমেরিকা, মেক্সিকো ও কানাডা। দেখতে দেখতে গ্রুপ পর্বের চারদিনের খেলাও হয়ে গেল! ৩৯ দিনের এই উৎসবের ভরা বাজারে তিন দেশেই এখন দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ ফুটবল ভক্তের ভিড়। তবে এই মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে শুধু ক্রীড়াপ্রেমীরাই নন, ইউরোপের হাজার হাজার যৌনকর্মীও এখন উত্তর আমেরিকার দিকে পা বাড়াচ্ছেন। সম্প্রতি ইউরোপীয় যৌনকর্মী প্ল্যাটফর্ম ‘এরোবেলা’ (Erobella)-র একটি সমীক্ষায় এমন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা নিয়ে টরন্টোসহ বিভিন্ন আয়োজক শহরে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে। যেন এই উৎসবের আমেজেই হতে চলেছে ভরপুর সঙ্গম!
ইউরোপে এরোবেলার প্রায় ৮৮,০০০ ইউজার রয়েছেন এবং এই গবেষণায় প্রায় ১০ লাখ যৌনকর্মীর রিপোর্ট বিবেচনা করা হয়েছে। সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের মোট যৌনকর্মীর প্রায় ২ শতাংশ (প্রায় ৯,০০০ জন) ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপ চলাকালীন উত্তর আমেরিকা ভ্রমণের চূড়ান্ত পরিকল্পনা করে ফেলেছেন। এছাড়া আরও প্রায় ৫ শতাংশ (প্রায় ২২,০০০ জন) এই সময়ে সেখানে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছেন। ঐতিহাসিকভাবেই দেখা গেছে, বিশ্বকাপের মতো বিরাট স্পোর্টস ইভেন্টগুলো বরাবরই যৌন শিল্পের জন্য অত্যন্ত লাভজনক হিসেবে প্রমাণিত হয়। কারণ এই সময়ে পর্যটন খাতে ব্যয়ের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত যৌনসেবার চাহিদাও ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পায়।
মূলত যুক্তরাজ্য ও জার্মানির মতো উচ্চ আয়ের দেশগুলো থেকেই সবচেয়ে বেশি কর্মী আসার সম্ভাবনা রয়েছে। গবেষকদের মতে, এই দেশগুলো উচ্চ-আয়ের হওয়ায় সেখানকার অনেক যৌনকর্মীই আটলান্টিক-পারের এই দীর্ঘ ভ্রমণের খরচ বহন করতে সক্ষম, যা হয়তো নিম্ন-আয়ের দেশের কর্মীদের পক্ষে সম্ভব হতো না। কারণ অনেকের হাতেই ভ্রমণের জন্য পর্যাপ্ত টাকা নাও থাকতে পারে। এরোবেলা জানিয়েছে, ভ্রমণের এই পরিকল্পনা ব্যক্তি ও দেশভেদে ভিন্ন হতে পারে এবং তা মূলত যাতায়াত খরচ, ভিসার শর্তাবলী ও স্থানীয় চাহিদার উপর নির্ভর করে।
পরিসংখ্যান বলছে, শুধুমাত্র ব্রিটেন এবং জার্মানি থেকেই ১১০০-র বেশি যৌনকর্মী বিশ্বকাপে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর মধ্যে ব্রিটেনের ৬৩৪ জন যৌনকর্মী ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছেন এবং ১৫৮৫ জনের কাছে বিষয়টি বিবেচনাধীন। অন্যদিকে, জার্মানির ৫১৫ জন যৌনকর্মী বিশ্বকাপে আসছেন বলেই জানিয়েছেন এবং আরও ১২৮৯ জন এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় আছেন। চাহিদা এতটাই বেশি যে, ব্রিটেনের কিছু কর্মী এখন চড়া প্রিমিয়াম রেটেই সার্ভিস দিচ্ছেন। তাঁরা ঘণ্টায় ৮০০ ডলার (যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬৯ হাজার টাকা) এবং পুরো দিনের জন্য ১০ হাজার ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯ লাখ টাকা) পর্যন্ত চার্জ করছেন।
অবশ্য এরোবেলা শুধু এই তথ্যই সামনে আনেনি, তারা যৌন পেশাকে ঘিরে থাকা সামাজিক কলঙ্ক বা নেতিবাচক ধারণা দূর করার পাশাপাশি যৌনতা নিয়ে শিক্ষাদান এবং এই পেশায় জড়িতদের জীবনযাত্রার ও কাজের পরিবেশের উন্নয়নেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তবে এই বিপুল আয়ের সম্ভাবনার আড়ালে এক বড় ধরণের আইনি ও অভিবাসন ঝুঁকিও লুকিয়ে আছে। এরোবেলা সতর্ক করে জানিয়েছে, অনেক যৌনকর্মীরই শেষ পর্যন্ত আমেরিকায় ঢুকতে না পারার বড় আশঙ্কা রয়েছে। কারণ মার্কিন আইন অনুযায়ী, বিগত এক দশকের মধ্যে কেউ যদি কোনও নির্দিষ্ট যৌন কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন—এমনকি সেই কাজটি নিজের দেশে সম্পূর্ণ বৈধ হলেও—তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে। সেখানে থাকাকালীন কাজ করার কোনও উদ্দেশ্য না থাকলেও স্রেফ এই পেশার ইতিহাসের কারণেই ট্রাম্পের দেশে প্রবেশাধিকার বাতিল হতে পারে।
কানাডিয়ান এসকর্ট লুসি হাক্সলি তাঁর এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে জানিয়েছেন, এর আগে একবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের চেষ্টার সময় তাঁকে আলাদাভাবে দীর্ঘ সময় ধরে জেরা করা হয়েছিল। তাঁর ফোন ও জিনিসপত্রেও তল্লাশি চালানো হয়। এরপর লুসিকে নিজের দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া তো হয়ই, সাথে পাঁচ বছরের জন্য তাঁর আমেরিকার দরজাও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে একদিকে যখন বিশ্বকাপের ভরা বাজারে কোটি টাকার হাতছানি, অন্যদিকে তখন আইনি জটিলতা আর নির্বাসনের ভয়—এই দুইয়ের দোলাচলেই কাটছে ফুটবল বিশ্বকাপের এই সমান্তরাল জগতের গল্প।















