আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার মাঠে নামছে মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়া। গ্রুপ ‘এ’-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এস্তাদিও আকরনে মুখোমুখি হবে দুই দল।
ম্যাচে জয় পেলেই দুই দলের যেকোনও একটি দল রাউন্ড অফ ৩২-এ নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে ফেলবে। বিশ্বকাপের এবারের ৪৮ দলের বর্ধিত ফরম্যাটে গ্রুপ পর্ব থেকে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দলের পাশাপাশি সেরা আটটি থার্ড পজিশন টিমও নকআউট পর্বে উঠবে।
ফলে মেক্সিকো বা দক্ষিণ কোরিয়া যে দলই বৃহস্পতিবার জিতুক না কেন, তারাই পরের রাউন্ডে জায়গা করে নেবে। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে মেক্সিকো দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে জয় পেয়েছে।
অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়াও তাদের প্রথম ম্যাচে চেকিয়ার বিরুদ্ধে জয় তুলে নিয়েছে। ফলে দুই দলই আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে। বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক মেক্সিকো প্রথম ম্যাচে তুলনামূলক দুর্বল দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সহজ জয় পেলেও দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে বলে মনে করছেন মেক্সিকোর কোচ জাভিয়ের আগুয়েরে।
তিনি বলেন, ‘প্রতিপক্ষের আক্রমণাত্মক ট্রানজিশন নিয়ে আমাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে। আমরা যখন আক্রমণে যাব, তখন কোনওভাবেই রক্ষণে অসতর্ক হওয়া যাবে না। যদি দু’জন কোরিয়ান খেলোয়াড় সামনে থাকে, তাহলে তাদের মোকাবিলায় তিন জন মেক্সিকানকে প্রস্তুত থাকতে হবে।’
দুই দলের কাছেই এই ম্যাচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জয় পেলেই নকআউটের রাস্তা আরও সহজ হয়ে যাবে। অন্যদিকে, এই ম্যাচের দক্ষিণ কোরিয়ার অনুশীলনে ড্রোন ওড়া নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশেষ সামরিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার অনুশীলন কেন্দ্রের কাছে একটি ড্রোনের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়।
পরে সেটিকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয় বলে জানিয়েছেন মেক্সিকোর এক সরকারি আধিকারিক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই আধিকারিক জানিয়েছেন, তাঁর কাছে প্রকাশ্যে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করার অনুমতি নেই।
তবে খবর পাওয়া মাত্রই কর্তৃপক্ষ দলের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কাছে ওই ড্রোনটিকে ধ্বংস করেছে। তবে ড্রোনটি কে পরিচালনা করছিল বা দক্ষিণ কোরিয়ার প্রস্তুতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা এখনও জানা যায়নি।
বিশ্বকাপের আগে এই ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ হং মিয়ং-বো জানিয়েছেন, বিষয়টি দলের প্রস্তুতিতে কোনও প্রভাব ফেলেনি। তিনি বলেন, ‘গতকাল অনুশীলনের সময় আকাশে একটি ড্রোন ছিল, বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছিলাম। সৌভাগ্যবশত, মূল অনুশীলনের আগে ঘটনাটি ঘটেছিল। তাই আমাদের ওপর কোনও প্রভাব পড়েনি। তবে ম্যাচের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন ঘটনা হওয়া দুর্ভাগ্যজনক।’
বিশ্বকাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই ড্রোনটি আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মেক্সিকোর ওই সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে স্টেডিয়াম, ফ্যান জোন এবং দলের প্রশিক্ষণ শিবিরের আশপাশে নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করা একাধিক ড্রোনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।















