আজকাল ওয়েবডেস্ক: এ বলে আমায় দেখ তো ও বলে আমায় দেখে। লিওনেল মেসি বিশ্বকাপের ইতিহাসের পাতায় নতুন রেকর্ড লিখলেন। তার কয়েক ঘণ্টা পরেই কিলিয়ান এমবাপে বুঝিয়ে দিলেন তাঁকেও খুব বেশিদিন আটকে রাখা যাবে যাবে না।

মেসি-রোনাল্ডো গত ১৬ বছর ধরে বিশ্ব ফুটবলকে রাজ করলে পরের প্রজন্মের সিংহাসনে যে এমবাপে বসে পড়েছেন তাতে কারোর দ্বিমত থাকার কথা নয়। ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে সবচেয়ে বেশি গোল করার নজির গড়েছেন মেসি।

পিছনে ফেলেছেন জার্মানির মিরোসাভ ক্লোজেকে। আপাতত মেসির গোলসংখ্যা ১৮। তার কয়েক ঘণ্টা পরেই ফ্রান্স খেলতে নামে ইরাকের বিরুদ্ধে। ফ্রান্সের ৩-০ জয়ের ম্যাচে জোড়া গোল করে এমবাপে বুঝিয়ে দিলেন, তিনিও ছেড়ে কথা বলার পাত্র নন।

আর ফরাসি সুপারস্টার তো তাঁর কেরিয়ারের প্রাইমটাইমে। বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচে প্রতিকূল আবহাওয়ার বাধা পেরিয়ে ইরাককে ৩-০ গোলে হারাল ফ্রান্স। জোড়া গোল করে ফরাসিদের জয়ে বড় ভূমিকা নিলেন এমবাপে।

২০২২ সালের ফাইনালিস্টরা পৌঁছে গেল রাউন্ড অফ ৩২-এ। ফিলাডেলফিয়ার লিংকন ফিনান্সিয়াল ফিল্ডে প্রথমার্ধের খেলা শেষ হওয়ার পরেই ঝেঁপে বৃষ্টি নামে। বজ্রবিদ্যুতের সতর্কতা থাকায় ম্যাচ বন্ধ রাখা হয়।

গ্যালারি থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় দর্শকদেরও। প্রায় ২ ঘণ্টা ২১ মিনিট বন্ধ থাকার পর ফের শুরু হয় ম্যাচ। ইরাকের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ফ্রান্স। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই মানু কোনের ডিফ্লেক্টেড শট প্রায় এমবাপের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল।

তবে ইরাকের রক্ষণ প্রথমদিকে ফরাসি আক্রমণ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ১৪ মিনিটে নিজের দক্ষতার ঝলক দেখান এমবাপে। বক্সের বাইরে থেকে তাঁর বাঁ-পায়ের গোলার মতো শট ইরাকের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে গোলে ঢুকে যায়।

বিশ্বকাপে নিজের ১৫ নম্বর গোল করে ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনাল্ডো নাজারিওর সমানে সমানে আসেন এমবাপে। এরপরেই বড় ধাক্কা খায় ইরাক। চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় দলের তারকা স্ট্রাইকার আমান হুসেনকে।

দীর্ঘক্ষণ ম্যাচ বন্ধ থাকার পর বৃষ্টি কমলে শুরু হয় খেলা। ৫৪ মিনিটে ইরাকের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় গোল পায় ফ্রান্স। আহমেদ কাসেমের ভুল ব্যাকপাস থেকে বল পেয়ে যান উসমান ডেম্বেলে।

তিনি ঠান্ডা মাথায় বল বাড়িয়ে দেন এমবাপের দিকে, আর সহজেই নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান বাড়ান ফরাসি তারকা। মাইকেল ওলিসে তৃতীয় গোলের সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি।

তবে ৬৬ মিনিটে ডেম্বেলে নিজের নামও স্কোরশিটে তোলেন। সেই ওলিসের পাস থেকেই দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ইরাকের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন তিনি। শেষ দিকে ইরাক ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেলেও ততক্ষণে ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল ম্যাচ।

কোচ দিদিয়ের দেশঁ শেষ দিকে দলেও কিছু পরিবর্তন আনেন। এমবাপের সামনে হ্যাটট্রিকের সুযোগ এসেছিল, কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।