আজকাল ওয়েবডেস্ক: চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফার নেওয়া একটি নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল বিশ্বে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রতিটি ম্যাচের দুই অর্ধে বাধ্যতামূলক ৩ মিনিটের ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ বা জল পানের বিরতি দেওয়ার এই নিয়ম নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করছেন ফুটবলার ও কোচেরা। জাপানের বিপক্ষে ম্যাচের পর নেদারল্যান্ডস দলের অধিনায়ক ভার্জিল ভ্যান ডাইক এই নিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে বলেছেন, এই ধরনের বিরতি খেলার স্বাভাবিক গতি নষ্ট করছে এবং দর্শকদের জন্যও এটি মোটেও সুখকর নয়।

আগের বিশ্বকাপগুলোতে তাপমাত্রা কিংবা আর্দ্রতা অতিরিক্ত বেশি থাকলে রেফারিরা পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই ধরনের বিরতি দিতেন। কিন্তু এবার ফিফা ১০৪টি ম্যাচের প্রতিটিতেই এই নিয়ম বাধ্যতামূলক করেছে। সিয়াটেলের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্টেডিয়াম হোক কিংবা গুয়াদালাহারার কড়া রোদ—সব জায়গাতেই এই নিয়ম একইভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। ফিফার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ভিন্ন আবহাওয়ায় খেলোয়াড়দের সুস্থতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো মনে করেন, প্রচণ্ড গরমে এই বিরতির যৌক্তিকতা থাকলেও সব ম্যাচে ঢালাওভাবে এটি চালু করার কোনও  মানে হয় না।

এই বিতর্কের পেছনে আরেকটি বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বাণিজ্যিক স্বার্থের বিষয়টি। সমালোচকরা আঙুল তুলছেন যে, ফিফা এই ৩ মিনিটের বিরতির সময়ে টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ করে দিচ্ছে। ফলে প্রতি ম্যাচে বাড়তি চারটি বিজ্ঞাপনের স্লট তৈরি হচ্ছে, যা থেকে বিপুল পরিমাণ সম্প্রচার রাজস্ব আয় করা সম্ভব। খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য সুরক্ষার দোহাই দিয়ে আসলে ফিফা নিজেদের পকেট ভারী করছে কি না—সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ভ্যান ডাইকের এই প্রকাশ্য সমালোচনা তাই ফিফাকে বেশ চাপের মুখেই ফেলেছে।