আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের ময়দানে ইরান যেসব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, তার পেছনে লুকিয়ে রয়েছে উত্তর কোরিয়ার প্রযুক্তির গভীর প্রভাব।
2
7
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রদর্শিত ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির একটি বড় অংশই হয় সরাসরি পিয়ংইয়ং থেকে কেনা, নয়তো উত্তর কোরিয়ার সরাসরি কারিগরি সহায়তায় দেশটিতে তৈরি করা হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে যে অস্ত্রের গর্জন শোনা যাচ্ছে, তার পেছনে দৃশ্যপটের আড়ালে রয়েছে এক বহু বছরের গোপন সামরিক সমীকরণ।
3
7
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ড. ব্রুস বেকটলের বক্তব্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তেহরান ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্কটি মূলত এক সরল ব্যবসায়িক লেনদেন—যেখানে উত্তর কোরিয়া বিক্রেতা আর ইরান ক্রেতা। উত্তর কোরিয়ার উদ্ভাবিত যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তির বিনিময়ে ইরান তাদের যুগিয়ে আসছে নগদ অর্থ ও জ্বালানি তেল।
4
7
সম্প্রতি ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যৌথ মার্কিন-ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়ার দিকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রটির দিকে নজর দিলেই এই আঁতাতের স্পষ্ট প্রমাণ মেলে। দূরপাল্লার ওই হামলার জন্য ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রটি ছিল মূলত উত্তর কোরিয়ার 'মুসুদান' ক্ষেপণাস্ত্র, যার অন্তত ১৯টি ইরান ২০০৫ সালেই পিয়ংইয়ংয়ের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিল।
5
7
উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন অবস্থান লক্ষ্য করে ইরান যে স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে, তার মূলে রয়েছে 'কিয়াম' (QIAM) ব্যবস্থা—যা উত্তর কোরিয়ার সহায়তায় গড়ে তোলা। এমনকি ইরানের বহুল আলোচিত 'শাহাব-৩' ক্ষেপণাস্ত্রটিও মূলত উত্তর কোরিয়ার 'নো ডং' (No Dong) প্রযুক্তির একপ্রকার অবিকল রূপ।
6
7
নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে পিয়ংইয়ং থেকে প্রায় দেড়শ নো ডং সিস্টেম কেনার পর, তাদেরই তত্ত্বাবধানে ইরানের মাটিতে কারখানা গড়ে তোলে তেহরান। সেখান থেকেই পরবর্তীতে জন্ম নেয় 'ইমাদ' ও 'কদর'-এর মতো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, যা বর্তমানে ইজরায়েল এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের লক্ষ্যবস্তুগুলোর ওপর আঘাত হানতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
7
7
এতদিন ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ সীমা দুই হাজার কিলোমিটার দাবি করে আসলেও, ডিয়েগো গার্সিয়ার মতো চার হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার চেষ্টা ইঙ্গিত দিচ্ছে তাদের দীর্ঘপাল্লার সক্ষমতা ধারণার চেয়েও অনেক বেশি প্রসারিত। সামরিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, উত্তর কোরিয়ার সাথে এই গোপন প্রযুক্তিগত আদান-প্রদান মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে এক নতুন ও অনির্দেশ্য মাত্রায় পৌঁছে দিচ্ছে, যেখানে স্থানীয় কোনো যুদ্ধ আর শুধু ওই ভূখণ্ডের অস্ত্রের শক্তিতে সীমাবদ্ধ থাকছে না।