আজকাল ওয়েবডেস্ক: চলতি সঙ্কটের মধ্যেই যখন ভারতীয় ফুটবল একের পর এক ধাক্কা সামলাতে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়ই রবিবার নয়াদিল্লিতে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি টুরের সূচনা করলেন অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কল্যাণ চৌবে এবং কেন্দ্রীয় ক্রীড়া দপ্তরের মন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য।

তবে এই ট্রফি ট্যুর আয়োজনের সময় নির্বাচন ও সামগ্রিক প্রেক্ষাপট নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠেছে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে। অধিকাংশের বক্তব্য, যারা দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ ঠিক করতে পারছে না, তারা বিশ্বকাপের প্রোমোশন শুরু করতে এত ব্যস্ত কেন?

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের প্রায় ছ’মাস আগে মূল ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি তিন দিনের সফরে ভারতে এসেছে। প্রায় ১২ বছর পর ফের দেশে ফিরেছে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই ট্রফি।

রাজধানীতে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক ও ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য, প্রাক্তন বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান ফুটবল গিলবার্তো সিলভা এবং ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে।

তবে ট্রফি ঘিরে উৎসবের আবহ ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। বরং সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই কটাক্ষ করেছেন, যখন দেশের ঘরোয়া ফুটবল কার্যত টিকে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত, তখন ফুটবলের সর্বোচ্চ ট্রফি প্রদর্শন কতটা যুক্তিযুক্ত?

এর মধ্যে আরও বেশি করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য। আইএসএল পুনরায় শুরুর ঘোষণা করতে গিয়ে তিনি বাংলার ঐতিহ্যবাহী দুই ক্লাব মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের নাম ভুল উচ্চারণ করেন।

যা ফুটবলপ্রেমীদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তোলে। দিল্লিতে দু’দিন থাকার পর বিশ্বকাপ ট্রফি অসমের গুয়াহাটিতে যাবে। সেটাই হবে বিশ্বকাপ ট্রফির ভারত সফরের শেষ ধাপ।

প্রসঙ্গত, প্রায় ন’মাসের অচলাবস্থার পর অবশেষে ভারতীয় ফুটবলের শীর্ষ লিগ ইন্ডিয়ান সুপার লিগের প্রত্যাবর্তনের দিনক্ষণ ঠিক হয়েছে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে লিগ শুরু হওয়ার কথা।

তবে এই প্রত্যাবর্তন যে খুব একটা সহজ হবে তাও নয়। অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন ও ফুটবল স্পোর্টস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের চুক্তি ভেঙে যাওয়ায় লিগ বর্তমানে সম্প্রচারকারী ও স্থায়ী আয়ের উৎস ছাড়াই শুরু হতে চলেছে দেশের প্রথম সারির ফুটবল লিগ।

এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ক্লাবগুলোর উপর। দেশের ফুটবল জীবিত রাখতে ক্লাবগুলোকেই এখন অনেকটা নিজেদের দায়িত্বে লিগ চালাতে হচ্ছে। ফলে আইএসএল শুরু হচ্ছে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে।

বাজেটের বড় অংশ জুড়ে থাকা ফুটবলারদের বেতনেও পড়েছে বড় কোপ। এক কোটি টাকার বেশি বেতন পাওয়া খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ এবং অন্যদের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বেতন কমানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

অনেক ক্ষেত্রেই খেলোয়াড়দের সামনে ছিল কঠিন সিদ্ধান্ত, বেতন কাটছাঁট মেনে নেওয়া অথবা পুরো মরশুমেই না খেলা। দীর্ঘ বিরতির ফলে মাঠের পারফরম্যান্সেও প্রভাব পড়েছে।

ম্যাচ ফিটনেস ও ধার কমেছে, ফর্মের অবনতি হয়েছে ফুটবলারদের। এর ফল স্বরূপ ভারতের ফিফা র‍্যাঙ্কিং নেমে গিয়ে পৌঁছেছে ইতিহাসের সর্বনিম্ন ১৪২ নম্বরে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর অনেকের কাছেই বেমানান ঠেকছে। একদিকে দেশে ঘুরছে ফুটবলের সর্বোচ্চ সম্মানের প্রতীক, অন্যদিকে দেশের ফুটবল কাঠামো নিজেই অস্তিত্ব সঙ্কটে।