ইস্টবেঙ্গল - ০

পাঞ্জাব এফসি - ০

আজকাল ওয়েবডেস্ক: চ্যাম্পিয়ন্স লাক কি নেই ইস্টবেঙ্গলের? সোমবার রাতে পাঞ্জাব এফসির সঙ্গে ড্রয়ের পর এমন প্রশ্ন উঠতেই পারে। ওড়িশা, মুম্বইকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে ভাল জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। এদিন পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে জিততে পারলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে আরও কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্ত আটকে যাওয়ায়, সুবিধা হল মোহনবাগানের। ১১ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট ইস্টবেঙ্গলের। এক ম্যাচ কম খেলে ২১ পয়েন্ট মোহনবাগানের। বাকি দুই ম্যাচ জিতলে ২৮ পয়েন্ট পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে লাল হলুদ। অর্থাৎ, আইএসএল জিততে বাকি দুই ম্যাচ জেতা ছাড়া গতি নেই। চ্যাম্পিয়নশিপের ভাগ্য গড়ে দেবে ডার্বি। অন্যদিকে ইন্টার কাশির বিরুদ্ধে জিতলে, বড় ম্যাচ জিততে পারলেই শেষ ম্যাচের আগে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে মোহনবাগান। এদিন রাতে একেবারেই দৃষ্টিনন্দন ফুটবল খেলতে পারেনি লাল হলুদ। তবুও সুযোগ ছিল। মিগুয়েল এবং রশিদের শট পোস্টে লাগে। সোম রাতে ভাগ্য সঙ্গ দেয়নি অস্কারের। তবে দুই দলের মধ্যে আধিপত্য ছিল পাঞ্জাবের। গোলের নীচে অনবদ্য প্রভসুখন গিল। নয়ত এক পয়েন্ট নিয়েও মাঠ ছাড়া হত না ব্রুজোর দলের। 

জোড়া জয়ে টেবিলের একনম্বর স্থান দখল করেছিল ইস্টবেঙ্গল। ১০ ম্যাচে কলকাতার দুই প্রধানই ২১ পয়েন্টে থাকলেও, গোল পার্থক্যে এগিয়ে ছিল লাল হলুদ। পাঞ্জাবের বিরুদ্ধ জিতলে খেতাব দৌড়ে আরও একধাপ এগিয়ে যেত অস্কার ব্রুজোর দল। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে ঘরের মাঠে যে ফুটবল খেলা উচিত, সেটা পারেনি ইস্টবেঙ্গল। মুম্বইয়ের বিরুদ্ধেও শুরুটা ভাল হয়নি অস্কারের দলের। কিন্তু বিরতিতে বিশেষ টোটকায় দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরে। কিন্তু এদিন সেই ধারাবাহিকতা মিসিং। বিক্ষিপ্ত ফুটবল লাল হলুদের। পজেশনাল ফুটবল খেলার চেষ্টা করলেও, বারবার বল পাছাড়া করে ফুটবলাররা।

দলে কয়েকটি পরিবর্তন করেন ব্রুজো। প্রথম একাদশে ফেরেন মিগুয়েল, এজেজ্জারি, রাকিপ এবং লালচুংনুঙ্গা। তিন রক্ষণের স্ট্র্যাটেজি ভেঙে এদিন ব্যাক ফোরে ফেরেন। কিন্তু লাল হলুদের ডেরায় ম্যাচের অধিকাংশ সময় অগ্রাধিকার ছিল পাঞ্জাবের। এফবং, রামিরেজ, জেলকোভিচের ত্রিভুজ আক্রমণে বেশ কয়েকবার বিপাকে পড়ে যায় ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ। যার ইঙ্গিত পাওয়া যায় খেলার শুরুতেই। ম্যাচের ২২ মিনিটে প্রথম পরিবর্তন লাল হলুদের। শৌভিকের জায়গায় নামান জিকসনকে। হলুদ কার্ড দেখায় কোনও ঝুঁকি নিতে চাননি অস্কার। তুলে নেওয়ার পর বেঞ্চে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইস্টবেঙ্গলের অধিনায়ক। প্রথমার্ধে সেইভাবে সুযোগ পায়নি অস্কারের দল। আক্রমণ মূলত উইং দিয়ে হয়। কিন্তু এদিন বোতলবন্দি হয়ে যান বিপিন এবং বিষ্ণু। যার প্রভাব পড়ে দলের খেলায়। ম্যাচের ৩০ মিনিটের মাথায় গোলের সুযোগ পায় ইস্টবেঙ্গল। সামনে একা পাঞ্জাবের গোলকিপারকে পেয়েও বল গোলে ঠেলতে পারেননি বিপিন। ম্যাচের ৩৯ মিনিটে আনোয়ারের দূরপাল্লার শট সরাসরি তালুবন্দি করেন পাঞ্জাবের গোলকিপার। এদিন ইস্টবেঙ্গলকে টক্কর দেয় পাঞ্জাব। ম্যাচের শুরুতেই সুযোগ পায়। প্রথম মিনিটে জেলকোভিচের শট তালুবন্দি করেন প্রভসুখন গিল। ম্যাচের ১৮ মিনিটে কিপজেনের শট আবার তালুবন্দি করেন ইস্টবেঙ্গল কিপার। 

প্রথমার্ধের মাঝামাঝি ম্যাচের গতি মন্থর হয়ে যায়। খেলা মাঝমাঠেই ঘোরাফেরা করে। দুই দলই আক্রমণে উঠতে ব্যর্থ। মাঠে হাজার ১৫ লাল হলুদ সমর্থক হাফ টাইমে অস্কারের পেপ টকের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু এদিন আর কপাল খোলেনি। তবে বিরতির পরপরই সুযোগ পায় ইস্টবেঙ্গল। বিষ্ণুর ক্রস বিপিন এবং রাকিপের মাথার ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। তার এক মিনিটের মধ্যে আবার সুযোগ। মিগুয়েলের বাঁ পায়ের শট একটুর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এদিন ভাগ্য সঙ্গ দেয়নি ইস্টবেঙ্গলের। মিগুয়েল এবং রশিদের শট পোস্ট এবং ক্রসপিসে লাগে। শেষ মিনিটে গোল মিস পরিবর্ত ফুটবলার নন্দকুমারের।