আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের কারণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো জাতীয় ফুটবল দল।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে পুরো দলকে কঠোর আইসোলেশনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
হোয়াইট হাউজ টাস্ক ফোর্স ফর দ্য ওয়ার্ল্ড কাপের কার্যনির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি জানিয়েছেন, ইবোলা পরিস্থিতির কারণে কঙ্গো দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের বেলজিয়ামে ২১ দিনের কঠোর ‘বায়ো-বাবল’-এর মধ্যে থাকতে হবে। এই নিয়ম ভঙ্গ করলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি বাতিল করা হতে পারে বলেও স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে জুলিয়ানি বলেন, “আমরা কঙ্গোকে পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি, ১১ জুন হিউস্টনে পৌঁছনোর আগে তাদের অবশ্যই টানা ২১ দিন সুরক্ষাবলয়ের মধ্যে থাকতে হবে। বায়ো-বাবল ভাঙলে তারা যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের অনুমতি হারাবে।”
তবে মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের পরও নিজেদের প্রস্তুতি পরিকল্পনায় কোনও পরিবর্তন আনছে না ডিআর কঙ্গো। দলের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই এগোচ্ছে তাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি।
সূচি অনুযায়ী, আগামী ৩ জুন বেলজিয়ামের লিয়েজে ডেনমার্কের বিরুদ্ধে এবং ৯ জুন স্পেনের কাদিসে চিলির বিরুদ্ধে দু'টি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে কঙ্গো। দলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান স্কোয়াডের কোনও খেলোয়াড় সরাসরি কঙ্গো থেকে আসেননি; অধিকাংশই ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলছেন। প্রধান কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাবেও বর্তমানে ইউরোপেই রয়েছেন।
যদিও কঙ্গো ফুটবল ফেডারেশনের কয়েকজন কর্মকর্তা সম্প্রতি সরাসরি কঙ্গো থেকে বেলজিয়ামের অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন, তবু দল আত্মবিশ্বাসী যে তারা সব স্বাস্থ্যবিধি মেনেই বিশ্বকাপ মিশনে অংশ নিতে পারবে।
২০২৬ বিশ্বকাপে ‘কে’ গ্রুপে খেলবে কঙ্গো। টেক্সাসের হিউস্টনে তাদের মূল বেস হওয়ার কথা। ১৭ জুন পর্তুগালের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে তারা। এরপর ২৩ জুন কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে কঙ্গো এবং ২৭ জুন আটলান্টায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান।
দীর্ঘ ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ায় দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছিল। এই ঐতিহাসিক অর্জন উদ্যাপনে রাজধানী কিনশাসায় তিন দিনের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান ও বিদায়ী সংবর্ধনার পরিকল্পনাও করেছিল কঙ্গো ফুটবল ফেডারেশন। তবে দেশে ইবোলার ভয়াবহ বিস্তারের কারণে সেই আয়োজন বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, কঙ্গোতে ছড়িয়ে পড়া ইবোলার বিরল ও মারাত্মক ধরন ‘বুন্দিবুগিও’ দ্রুত জাতীয় মহামারীতে রূপ নেওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিস্থিতির অবনতির কারণে কঙ্গো ও প্রতিবেশী উগান্ডায় আন্তর্জাতিক উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কঙ্গোতে প্রায় ৭৫০ জন সন্দেহভাজন ইবোলা রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে মারা গিয়েছেন অন্তত ১৭৭ জন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বিশ্বকাপ মঞ্চে নিজেদের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে চলেছে ডিআর কঙ্গো জাতীয় ফুটবল দল।















