ভারতের একমাত্র রেলস্টেশন, যেখানে একসময় ঢুকতে লাগত পাসপোর্ট-ভিসা! কোথায় জানেন?
নিজস্ব সংবাদদাতা
৩০ জুলাই ২০২৬ ১৪ : ১৪
শেয়ার করুন
1
12
ভারতে ট্রেনে চড়ে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যেতে হলে শুধু টিকিট থাকলেই হয়। পাসপোর্ট বা ভিসার কোনও প্রয়োজন নেই। কিন্তু জানেন কি, ভারতেরই এমন একটি রেলস্টেশন ছিল, যেখানে প্রবেশ করতে একসময় পাসপোর্ট ও ভিসা দেখানো বাধ্যতামূলক ছিল? শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এটাই সত্যি।
2
12
এই রেলস্টেশনের নাম অট্টারি শ্যাম সিং রেলস্টেশন। এটি পঞ্জাবের অমৃতসর জেলার অট্টারি এলাকায় অবস্থিত। ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত থেকে এই স্টেশনের দূরত্ব খুবই কম। এটি ভারতের শেষ রেলস্টেশন, যার পরেই রয়েছে পাকিস্তানের ওয়াঘা সীমান্ত।
3
12
কেন লাগত পাসপোর্ট ও ভিসা? অট্টারি রেলস্টেশনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের ইতিহাস। দেশভাগের পর বহু বছর ধরে এই স্টেশন ছিল দুই দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
4
12
এই স্টেশন দিয়েই চলত বিখ্যাত সমঝোতা এক্সপ্রেস। ১৯৭৬ সালে চালু হওয়া এই ট্রেনটি দিল্লি থেকে পাকিস্তানের লাহোর পর্যন্ত যাতায়াত করত। দুই দেশের মধ্যে যেসব মানুষের আত্মীয়-স্বজন ছিলেন, ব্যবসার কাজে যেতেন বা ধর্মীয় কারণে ভ্রমণ করতেন, তাঁদের কাছে এই ট্রেন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
5
12
যেহেতু ট্রেনটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করত, তাই যাত্রীদের কাছে বৈধ পাসপোর্ট ও পাকিস্তানের ভিসা থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। অট্টারি স্টেশনে যাত্রীদের নথিপত্র পরীক্ষা করা হতো। ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই যাত্রীরা ট্রেনে উঠতে পারতেন।
6
12
অট্টারি স্টেশন সাধারণ রেলস্টেশনের মতো নয়। এটি একটি আন্তর্জাতিক সীমান্তের প্রবেশদ্বার। তাই এখানে সবসময়ই নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর ছিল। স্টেশনে প্রবেশের আগে যাত্রীদের পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ভিসা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করা হতো। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকতেন সীমান্তরক্ষী বাহিনী, রেল পুলিশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার কর্মীরা।
7
12
যে কেউ ইচ্ছে করলেই এই স্টেশনে প্রবেশ করতে পারতেন না। আন্তর্জাতিক যাত্রার অনুমতি থাকলেই সেখানে ঢোকার সুযোগ মিলত। এখন সেই নিয়ম আর নেই। ২০১৯ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পর সমঝোতা এক্সপ্রেস পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে এই রুটে আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
8
12
এখন সাধারণ মানুষকে এই স্টেশনে ঢোকার জন্য পাসপোর্ট বা ভিসা দেখাতে হয় না। তবে যেহেতু এটি সীমান্তবর্তী এলাকা, তাই এখনও সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কড়া। অনেক ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র দেখাতে হতে পারে এবং নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
9
12
অট্টারি রেলস্টেশন শুধু একটি রেলস্টেশন নয়, এটি ভারতের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। এই স্টেশনের মাধ্যমে একসময় দুই দেশের মধ্যে যাত্রী চলাচলের পাশাপাশি পণ্য পরিবহণও হত। বর্তমানে সীমিত পরিসরে কিছু বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এছাড়া সীমান্ত সংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি কাজেও এই স্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
10
12
অমৃতসরে বেড়াতে গেলে অনেকেই অট্টারি এবং ওয়াঘা সীমান্ত দেখতে যান। বিশেষ করে ওয়াঘা বর্ডারের বিটিং রিট্রিট অনুষ্ঠান দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
11
12
সমঝোতা এক্সপ্রেস চালু হয়েছিল ২২ জুলাই ১৯৭৬ সালে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক করার উদ্দেশ্যে এই ট্রেন পরিষেবা শুরু হয়। বহু বছর ধরে এটি ভারত ও পাকিস্তানের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল।
12
12
তবে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে মাঝেমধ্যেই এই পরিষেবা বন্ধ ও চালু হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ২০১৯ সালে এটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।