আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ যত কাণ্ড যোগী রাজ্যে। এবার জাতীয় বক্সিং প্রতিযোগিতায় অব্যবস্থার অভিযোগ উঠল। টুর্নামেন্টের ফাইনালের আগের রাতে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হল বিভিন্ন দলের খেলোয়াড়, কোচ এবং সাপোর্ট স্টাফদের। শুক্রবার খেলা শেষ হওয়ার পর হোটেলে ফিরে বিভিন্ন দলের খেলোয়াড়রা দেখেন তাঁদের সব ব্যাগ ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। 


জানা গেছে, গ্রেটার নয়ডার গৌতম বুদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে হচ্ছে জাতীয় বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপ। এদিকে ঠাণ্ডায় কাঁপছে উত্তরপ্রদেশ। সেখানে রাতের তাপমাত্রা নেমে যাচ্ছে ৬–৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। শুক্রবার রাতের কয়েক ঘণ্টা ওই ঠান্ডায় এক রকম খোলা আকাশের নীচে কাটাতে হয়েছে বিভিন্ন রাজ্যের খেলোয়াড় এবং কোচদের। সমস্যায় পড়ে তেলেঙ্গানা, কেরল, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, কর্নাটক, গোয়া, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু এবং ছত্তিশগড় দল। নয়ডার বিভিন্ন হোটেল এবং লজে খেলোয়াড়দের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সব জায়গা থেকেই তাদের বের করে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে জাতীয় স্তরের বক্সারদের মধ্যে।


এমন ঘটনায় বক্সিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ‘‌সমস্যার কথা জানার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গৌতম বুদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়েই বা কাছাকাছি কোনও জায়গায় খেলোয়াড়, কোচদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকলে যাতে ভাল ভাবে ঘুমোতে পারে, তা নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।’ 
এক রাজ্য দলের বক্সিং কোচ জানিয়েছেন, ‘‌প্রতিযোগিতার জায়গা থেকে ফিরে সন্ধে সাড়ে ৭টা নাগাদ আমরা বিষয়টা জানতে পারি। আমাদের দলের সকলকে দ্রুত ঘর খালি করে দিতে বলা হয়। জানানো হয়, শুক্রবার পর্যন্তই ঘরের বুকিং করা ছিল। আমাদের গভীর রাত পর্যন্ত রাস্তাতেই থাকতে হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়।’ আর একটি দলের কোচ বলেছেন, ‘শনিবার আমাদের একাধিক বক্সার ফাইনাল খেলতে নামবে। শুক্রবার ৪০টা সেমিফাইনাল ছিল। সব দলের খেলোয়াড়রাই ক্লান্ত। ওদের বিশ্রাম প্রয়োজন। রাতের খাওয়াটাও ঠিক ভাবে খেতে পারেনি ওরা। জানি না কেন এমন হল।’‌ 


ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাজ্যের কর্তারাও। এক জন বলেছেন, ‘খেলোয়াড়দের থাকা এবং খাওয়ার ব্যবস্থা ঠিক মতো করা আয়োজকদের ন্যূনতম দায়িত্ব। সেটুকু ঠিক ভাবে করতে না পারলে এমন প্রতিযোগিতা আয়োজনের দায়িত্ব কেন নিয়েছে?’‌ 


বক্সিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার এক কর্তা অজুহাতের সুরে বলেছেন, ‘প্রথমে প্রতিযোগিতা হওয়ার কথা ছিল ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৭ জানুয়ারি। সেই মতো সব ব্যবস্থা করা ছিল। পরে প্রতিযোগিতার দিন বদলে হয়েছে ৪ থেকে ১০ জানুয়ারি। সে জন্যই সমস্যা হয়েছে। বিষয়টা জানার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’