আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‌ফাস্ট বোলারদের কথা ভাবলেই এককথায় পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজের কথা মনে পড়ে। শোয়েব আখতার, ওয়াকার ইউনিস, ওয়াসিম আক্রম, কোর্টনি ওয়ালশ, কার্টলি আমব্রোজদের মতো একের পর এক জোরে বোলার উৎপাদন করেছে দুই দেশ। কিন্তু বাংলাদেশে এক্সপ্রেস পেসার? যে দেশের ক্রিকেট মূলত স্পিন ভিত্তিক, সেখানে রাতারাতি ঝড় তুলেছেন নাহিদ রানা। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের আবিষ্কার ছাপাইনবাবগঞ্জের ২১ বছরের স্পিডস্টার। রাওয়ালপিন্ডিতে নিয়মিত ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে বল করে নজর কেড়েছেন। তাঁর বোলিংয়ের বিরুদ্ধে হিমশিম খায় পাকিস্তানের ব্যাটাররা। দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৪ রানে ৪ উইকেট তুলে নেয়। শুধুমাত্র গতি নয়, লাইন এবং লেন্থও পারফেক্ট। আজকাল আইপিএলের দৌলতে ভারতে বেশ কয়েকজন জোরে বোলার উঠে এসেছে। কিন্তু ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। তারওপর রয়েছে চোট-আঘাতের সমস্যা। এই তালিকার আছেন উমরান মালিক, মায়ঙ্ক যাদবরা।‌ কিন্তু বাংলাদেশের এই তারকা আশা জাগাচ্ছেন। কোনওদিন বাংলাদেশের জাতীয় দলে খেলার লক্ষ্য নিয়ে কেরিয়ার শুরু করেননি। পাড়ায় ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। এসএসসি পরীক্ষার পর ক্লেমন ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হন। তাঁর প্রতিভা কোচ আলমগীর কবিরের নজরে পড়ে। সেই পথচলা শুরু। এবার ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের তুরুপের তাস হতে পারেন নাহিদ। 

এক সপ্তাহ পরই শুরু ভারত-বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজ। ১৯ সেপ্টেম্বর চেন্নাইয়ে প্রথম টেস্ট। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর আত্মবিশ্বাসে টগবগ করে ফুটছে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। ভারত ভাল দল মেনে নিলেও, রোহিতদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার জন্য তৈরি বাংলাদেশের এই উঠতি জোরে বোলার। নাহিদ বলেন, 'আমরা ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের জন্য তৈরি। আমরা ট্রেনিং শুরু করে দিয়েছি। প্রস্তুতি ভাল হলে তার ফল ম্যাচে পড়বে। ভারত শক্তিশালী দল। তবে যারা ভাল ক্রিকেট খেলবে, তারাই জিতবে।' পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অনবদ্য পারফরমেন্সে নজর কাড়েন। ভারতের বিরুদ্ধেও একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান। নাহিদ বলেন, 'পাকিস্তান যাওয়ার আগে আমি বলেছিলাম, দেশের জন্য কিছু করতে চাই। প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছি জেনে ভাল লাগছে।' চেন্নাইয়ের পিচে সুবিধা পায় বোলাররা। তার ফায়দা তুলতে মরিয়া বাংলাদেশ এক্সপ্রেস।