ইউনাইটেড কলকাতা স্পোর্টস ক্লাব - ৯

কালীঘাট স্পোর্টস লাভার্স অ্যাসোসিয়েশন - ০

আজকাল ওয়েবডেস্ক: চারে চার। হ্যাটট্রিক অনিতা কুমারীর। আরও একটি দুর্দান্ত জয়। ঘরের মাঠে ফিরতেই ফের খুলল লকগেট। আবার গোলের ফুলঝুরি। বুধবার কন্যাশ্রী কাপ প্রিমিয়ার ডিভিশন এ-র ম্যাচে কালীঘাট স্পোর্টস লাভার্স অ্যাসোসিয়েশনকে ৯-০ গোলে উড়িয়ে দিল ইউনাইটেড কলকাতা স্পোর্টস ক্লাব। ৪ ম্যাচে ৩২ গোল। ১২ পয়েন্ট। সঙ্গে ক্লিনশিট। গ্রুপ এ-তে ইস্টবেঙ্গল, শ্রীভূমির মতো দল থাকা সত্ত্বেও একমাত্র ক্লিনশিট ইউকেএসসির।‌ তিন গোল করেন অনিতা কুমারী। জোড়া গোল তানিয়া কান্তির। বাকি চার গোল তনুশ্রী দাস, মিনি রায়, অ্যানি তায়াং এবং মিনা খাতুনের। মৈত্রী সংঘের বিরুদ্ধে জিতলেই চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডের ছাড়পত্র নিশ্চিত। ইস্টবেঙ্গল ম্যাচের মহড়া সেরে রাখল ইউনাইটেড। এদিন জিডি ব্লকের মাঠের ধারে বসে প্রতিপক্ষকে মাপেন ইস্টবেঙ্গল কোচ অ্যান্টনি অ্যান্ড্রুজ। আগের ম্যাচেই শ্রীভূমিকে হারিয়েছে ইউনাইটেড। ইস্টবেঙ্গল ম্যাচ থেকে পয়েন্ট পেলে, সেটা বড় প্রাপ্তি হবে। 

বুধবার প্রথম তিন ম্যাচের পুনরাবৃত্তি। ঘরের মাঠে আবার ফেরে দাপুটে ফুটবল। কন্যাশ্রী কাপে ঘরের মাঠে ইউনাইটেডকে চ্যালেঞ্জ জানানো যেকোনও দলের পক্ষেই কঠিন। বিশেষ করে যে ছন্দে আছে প্রশান্ত ভট্টাচার্যের দল। এদিন তার আরও একটি উদাহরণ মিলল। এদিনের ম্যাচে দলে দুটি পরিবর্তন করেন ইউকেএসসির কোচ। অধিনায়ক পূজা কর্মকারের জায়গায় প্রথম একাদশে সুযোগ পান তনুশ্রী রায়। রানি ভৌমিকের জায়গায় শুরু করেন নিতু লিন্ডা। প্রথম একাদশে দু'জন বিশ্বকাপার। জিডি ব্লকে চেনা ছন্দে শুরু করে ইউকেএসসি। এদিন অধিনায়কের আর্মব্যান্ড ছিল মিনি রায়ের হাতে। গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি ইউকেএসসিকে। বিরতিতে তিন গোলে এগিয়ে যায়। 

ম্যাচের চার মিনিটে এগিয়ে যায় ইউকেএসসি। গোল করেন অনিতা কুমারী। আট মিনিট পর ব্যবধান বাড়ে। ম্যাচের ১২ মিনিটে ২-০। বাঁ দিক থেকে ভেসে আসা ক্রসে হেড তনুশ্রী রায়ের। এদিনও একপেশে খেলা। পুরো আধিপত্য ছিল ইউনাইটেডের। গোল লক্ষ্য করে বেশ কিছু শট নেয় তানিয়া, অনিতারা। কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। একাধিক সুযোগ নষ্ট না হলে এদিনও এক ডজনের বেশি গোল হত।

আধ ঘণ্টার মাথায় প্রথম আক্রমণ কালীঘাটের। কিন্তু বিপদ তৈরি হয়নি। প্রথমার্ধের শেষ কোয়ার্টারে কিছুটা বল ধরে খেলার চেষ্টা করে কালীঘাট। কিছু ভুলভ্রান্তি হয় ইউনাইটেডের। কিন্তু উল্লেখযোগ্য কোনও আক্রমণ ছিল না বিপক্ষের। বরং, বিরতির আগে গোল ব্যবধান আরও বাড়ায় ইউনাইটেড। ম্যাচের ৪৫+৪ মিনিটে ৩-০। গোল করেন মিনি রায়। 

চার ম্যাচেই দ্বিতীয়ার্ধে আরও ভাল ফুটবল খেলে ইউকেএসসি। তার প্রথম কারণ, কোচের স্ট্র্যাটেজি বদল। দ্বিতীয়ত, রোদের তেজ কিছুটা কমায়। বিরতির পর আরও পাঁচ গোল। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে দলের হয়ে চতুর্থ গোল অ্যানি তায়াংয়ের। এদিনও নজর কাড়েন অরুণাচলের ফুটবলার। শ্রীভূমির বিরুদ্ধে সুযোগ পেলেও তেকাঠিতে রাখতে পারেননি। এদিন সেই হতাশা দূর করেন। বিরতির পর গোলের বন্যা। ম্যাচের ৫২ মিনিটে ৫-০ করেন তানিয়া কান্তি। ৫৮ মিনিটে ষষ্ঠ গোল পরিবর্ত ফুটবলার মিনা খাতুনের। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে সাত নম্বর গোল তানিয়া কান্তির।‌ ৭০ এবং ৮৮ মিনিটে জোড়া গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন অনিতা কুমারী। ২০২৩ সালে বিশ্বকাপ খেলেছেন। কলকাতায় বিভিন্ন ক্লাবে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু ইউকেএসসির মতো পরিকাঠামো আগে পাননি। সঙ্গে কোচ প্রশান্ত ভট্টাচার্যের সাপোর্ট। এই দুই কারণই তাঁর এবং দলের সাফল্যের চাবিকাঠি, জানান অনিতা। টানা চার ম্যাচ জিতে সন্তুষ্ট কোচ প্রশান্ত ভট্টাচার্য। আরও তৃপ্তি দিচ্ছে ক্লিনশিট।‌এবার আসল লক্ষ্য ইস্টবেঙ্গল ম্যাচ।