সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল কানাডার ভ্যাঙ্কুভার আইল্যান্ডের বাসিন্দা সোনিয়া সেমিওনোভার কাণ্ড। ৪৫ বছর বয়সী এই নারী নিজেকে ‘ইকোসেক্সুয়াল’ বলে দাবি করেন। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, একটি ওক গাছের প্রেমে পড়েছেন তিনি! তার এই অদ্ভুত সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে আসতেই নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।

সোনিয়া একজন পেশাদার ‘বডি স্টোরিটেলার’ বা স্ব-ঘনিষ্ঠতা প্রশিক্ষক। তাঁর দাবি, মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের চেয়ে প্রকৃতির সঙ্গে এই গভীর টান অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক। জানা যায়, ২০২০ সালে করোনা মহামারীর সময়ে তিনি নিয়মিত হাঁটতে বেরোতেন। তখনই বাড়ির কাছে থাকা বিশাল এক ওক গাছের সঙ্গে এক অদ্ভূত মনের টান অনুভব করেন তিনি।

সোনিয়ার কথায়, “গাছটা আমাকে এক অন্যরকম অনুভূতি দেয়। মনে হয়, কোনও এক অটল শক্তি আমাকে ধরে আছে, আমি পড়ে যাব না। এই অনুভূতিই আমি আমার সঙ্গীর মধ্যে খুঁজে বেড়িয়েছি, যা আসলে মানুষের ক্ষেত্রে পাওয়া বেশ কঠিন।”

তবে ‘ইকোসেক্সুয়াল’ হওয়ার মানে এই নয় যে, মানুষের সঙ্গে গাছের কোনও শারীরিক সম্পর্ক হয়। সোনিয়া স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটি পুরোপুরি এক ভিন্ন ধরনের মানসিক ও আত্মিক বিষয়। তাঁর মতে, ইকোসেক্সুয়ালিটি হল প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং এর রহস্যময়তার মাঝে হারিয়ে যাওয়া। 

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমরা সবাই তো পিকনিক করতে পার্কে যেতে বা পাহাড়ি রাস্তায় হাঁটতে ভালবাসি। কেন ভালবাসি? কারণ আমরা অবচেতনভাবে সেই প্রাণের স্পন্দন খুঁজি। প্রকৃতির সঙ্গে যদি আমরা আরও সহমর্মিতার সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি, তবে পৃথিবী আরও সুন্দর হয়ে উঠবে।”

গাছের প্রেমে পড়ার এই ধারণা শুনতে অস্বাভাবিক মনে হলেও, সোনিয়া মনে করেন, এটি আসলে মানুষের আদিম সত্তার জাগরণ। তাঁর এই অদ্ভুত জীবনবোধ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে নানা বিতর্ক।