কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংগঠন পরিষেবায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। অবসরকালীন সঞ্চয় ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও দ্রুত করতে একাধিক ডিজিটাল সংস্কার করেছে কেন্দ্র।
2
12
এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, অনলাইন ক্লেম জমা দেওয়ার সময় আর বাতিল করা চেকের ছবি বা ব্যাঙ্ক পাসবুকের ছবি আপলোড করার প্রয়োজন নেই। এই সিদ্ধান্তে ইতিমধ্যেই প্রায় ৭ কোটি ইপিএফও সদস্য উপকৃত হয়েছেন বলে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে।
3
12
রাজ্যসভায় এক লিখিত জবাবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী শোভা করন্দলাজে এই তথ্য জানিয়েছেন। ৬ আগস্ট রাজ্যসভায় সাংসদ মীনাক্ষী জৈনের করা এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রকের পক্ষ থেকে ইপিএফও-র বিভিন্ন পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরা হয়।
4
12
সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ইপিএফও মোট ৮ কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি দাবি নিষ্পত্তি করেছে। নির্দিষ্ট হিসাবে, এই অর্থবর্ষে ৮৩,০৯৪,৩৮৮টি দাবি মেটানো হয়েছে।
5
12
এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ইপিএফও ৬০,১৫৯,৬০৮টি দাবি নিষ্পত্তি করেছিল। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দাবি নিষ্পত্তির সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে।
6
12
আগে সদস্যদের অনলাইনে টাকা তোলার আবেদন বা অন্যান্য ক্লেম জমা দেওয়ার সময় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের জন্য বাতিল চেকের ছবি অথবা ব্যাঙ্ক পাসবুকের ছবি আপলোড করতে হত।
7
12
অনেক সময় ছবির মান খারাপ হওয়া, তথ্য স্পষ্ট না থাকা বা আপলোড সংক্রান্ত সমস্যার কারণে ক্লেম বাতিল হয়ে যেত। এর ফলে সদস্যদের সমস্যায় পড়তে হত এবং অভিযোগও বাড়ত।
8
12
শ্রম মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাস থেকে এই অতিরিক্ত নথি জমা দেওয়ার নিয়ম সম্পূর্ণভাবে তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। ফলে বাতিল চেক বা ব্যাঙ্ক পাসবুকের ছবি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
9
12
এই পরিবর্তনের ফলে অনলাইন ক্লেম প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত এবং ব্যবহারবান্ধব হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। বিশেষ করে যেসব সদস্য ডিজিটাল মাধ্যমে পিএফের টাকা তোলা বা অন্যান্য পরিষেবা গ্রহণ করেন, তাঁদের জন্য এই সিদ্ধান্ত বড় সুবিধা এনে দিয়েছে।
10
12
বর্তমানে ইপিএফও ধীরে ধীরে পুরো ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করার দিকে এগোচ্ছে। সদস্যদের যাতে কম কাগজপত্রের মাধ্যমে দ্রুত পরিষেবা দেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যেই একাধিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ব্যাঙ্ক তথ্য যাচাই থেকে শুরু করে ক্লেম নিষ্পত্তি—সব ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে।
11
12
কেন্দ্রের দাবি, নতুন ব্যবস্থার ফলে ক্লেম প্রসেসিংয়ের সময় কমবে, অপ্রয়োজনীয় নথিপত্রের ঝামেলা কমবে এবং সদস্যদের অভিযোগের সংখ্যাও কমবে।
12
12
কয়েক কোটি সদস্যের জন্য এই পরিবর্তন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভবিষ্যনিধির টাকা তোলা, পেনশন সংক্রান্ত সুবিধা গ্রহণ বা অন্যান্য আর্থিক পরিষেবার ক্ষেত্রে সহজ ও দ্রুত প্রক্রিয়া এখন আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। সরকারের এই পদক্ষেপকে আধুনিকীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।