'গজনি' সিনেমায় যে ভয়ঙ্কর খলনায়কের চরিত্র দেখে দর্শকরা শিউরে উঠেছিলেন, সেই জনপ্রিয় অভিনেতা প্রদীপ রাওয়াত না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন। ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। আগে একবার চিকিৎসার মাধ্যমে ক্যানসারকে হারিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু বহু বছর পর এই রোগটি আবার তাঁর শরীরে ফিরে আসে। ক্যানসার থেকে সেরে ওঠার পরও কেন এভাবে আবার ফিরে আসে, প্রদীপ রাওয়াতের মৃত্যু নতুন করে সেই প্রশ্ন তুলেছে। 

* লুকিয়ে থাকা অদৃশ্য ক্যানসার কোষ: ক্যানসারের চিকিৎসার সময় কেমোথেরাপি বা অন্যান্য ওষুধের মাধ্যমে শরীরের ক্ষতিকর ক্যানসার কোষগুলোকে মেরে ফেলা হয়। কিন্তু অনেক সময় অত্যন্ত সূক্ষ্ম বা ছোট কিছু ক্যানসার কোষ বোন ম্যারো (অস্থিমজ্জা) বা রক্তের মধ্যে সুপ্ত অবস্থায় লুকিয়ে থাকে। এগুলো এতটাই ছোট হয় যে চিকিৎসকদের বড় বড় পরীক্ষা-নিরীক্ষাতেও তখন ধরা পড়ে না। চিকিৎসায় রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন মনে হলেও, এই ছোট কোষগুলো ভেতরে থেকে যায়।

* হঠাৎ ঘুম ভাঙা এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়া: শরীরে লুকিয়ে থাকা এই কোষগুলো বছরের পর বছর নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু কোনও কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়লে বা অনুকূল পরিবেশ পেলে এগুলো আবার হঠাৎ জেগে ওঠে। তখন তারা খুব দ্রুত নিজেদের বংশবৃদ্ধি করতে শুরু করে এবং আবার শরীরে ক্যানসার ফিরিয়ে আনে।

* ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা: ক্যানসার কোষগুলো নিজেদের রূপ বদলাতে পারে। প্রথমবার চিকিৎসার সময় যেসব ওষুধ বা কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছিল, বেঁচে যাওয়া ক্যানসার কোষগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সব ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। ফলে এগুলো যখন আবার ফিরে আসে, তখন আগের ওষুধ আর কাজ করতে চায় না।

* রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া: মানুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বা অন্য কোনও শারীরিক অসুস্থতার কারণে শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে গেলে শরীর আর এই নতুন ক্যানসার কোষগুলোর সঙ্গে লড়াই করে জিততে পারে না।

চিকিৎসকদের মতে, ক্যানসার একবার সম্পূর্ণ সেরে গেলেও চিকিৎসকদের নজরদারিতে থাকা অত্যন্ত জরুরি। ক্যানসারমুক্ত হওয়ার পরও নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা ও শরীরের চেক-আপ করানো উচিত।

চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠা কোনও ব্যক্তির যদি হঠাৎ করে ঘন ঘন জ্বর আসে, শরীর প্রচণ্ড ক্লান্ত লাগে, কোনও কারণ ছাড়াই ওজন কমে যায় বা গায়ে কালশিটে দাগ পড়ে, তবে এক মুহূর্তও দেরি না করে রক্ত পরীক্ষা করানো এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শুরুতেই যদি ক্যানসার আবার ফিরে আসার লক্ষণগুলো ধরা পড়ে, তবে সঠিক চিকিৎসায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা অনেক সহজ হয়।