বারান্দা হোক বা ছাদ, কিংবা বাড়ির বাগান, অথবা এক ফালি জানালা, সবুজের ছোঁয়া থাকলে যেমন দেখতে ভাল লাগে, তেমনই চোখের আরাম। অনেকেই বাহারি গাছ দিয়ে বারান্দা, ছাদ সাজান। কিন্তু শীত আসতে না আসতেই গাছপালা শুকিয়ে যাচ্ছে? শত যত্নের পরেও সাধের গাছ বাঁচাতে পারছেন না? তাহলে এই সহজ উপায়গুলো মাথায় রাখুন। এইভাবে যত্ন নিলে শীতেও বাগান সবুজ হয়েই থাকবে।
শীতকালে গাছের যত্ন নিতে সবার প্রথমে যেটা করতে পারেন মোটা করে ভেজা খড় বা পাতার আস্তরণ ছড়িয়ে দিন গাছের গোড়ায়। এতে মাটির তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে না, আর্দ্রতা বজায় থাকবে। আপনি যদি পাহাড়ি এলাকায় থাকেন, বরফপাতের সম্ভাবনা থাকলেও তা গাছকে রক্ষা করবে।
নমনীয় গাছের বদলে জে গাছ রুক্ষতা সইতে পারে এমন গাছ লাগান শীতকালে। মনে রাখবেন, যত যাই করুন, সব গাছ কিন্তু ঠান্ডা সহ্য করতে পারে না। তাই ঠান্ডা সহ্য করে এমন গাছ, যেমন পালং শাক, ভয়লা, গাজর, ইত্যাদি চাষ করতে পারেন। শীতকালীন ফুলের গাছ যেমন গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা, ইত্যাদি লাগাতে পারেন।
বাড়ির যেখানে সূর্যের আলো পড়ে সেখানে গাছগুলো রাখার চেষ্টা করুন। উত্তর দিকে কোনও গাছ রাখা থাকলে, তাদের এনে বাড়ির দক্ষিণ দিকে রাখুন যাতে উত্তুরে হাওয়া না লাগে। যতটা পারেন গাছের গায়ে সূর্যের তাপ, আলো লাগার ব্যবস্থা করুন।
প্রয়োজন পড়লে গাছের ডালপালা সামান্য ছেঁটে দিতে দ্বিধাবোধ করবেন না। এতে উপকার বই উপকার হবে না।
বুঝে গাছে জল দিন। একগাদা জল দেবেন না, এতে যেমন গাছের শিকড় পচে যেতে পারে, তেমনই অল্প জল দিলেও এই শীতের মরশুমে হবে না। জল দেওয়ার আগে মাটিতে হাত দিয়ে দেখুন। যদি ভেজা লাগে তাহলে জল দেবেন না। যদি দেখেন শুকিয়ে গিয়েছে, তবে অবশ্যই ভাল করে জল দিন।
জৈব সার দিতে ভুলবেন না এই সময় গাছকে। এতে গাছের বৃদ্ধি হয়। মরে যাওয়ার হাত থেকে আটকায়। এছাড়া যদি মনে করেন একজন মালি বা গাছ বিক্রেতাকে দিয়ে এই সময় দুই সপ্তাহে একবার করে অন্তত গাছের পরিচর্যা করিয়ে নিন।
এই সহজ জিনিসগুলো মনে রেখে গাছের যত্ন নিলে শীতকালেও আপনার বাগান, জানাল, ছাদ সবুজ হয়ে থাকবে। প্রাণের গাছ শুকিয়ে যাবে না।
