আজকাল ওয়েবডেস্ক: হিন্দু সংস্কৃতিতে প্রসাদ শুধু খাবার নয়, এটি একটি পবিত্র নৈবেদ্য। যা দেবতাকে নিবেদন করার পর ঐশ্বরিক আশীর্বাদ বহন করে বলে বিশ্বাস করা হয়। তবে, ভগবান শিবের ক্ষেত্রে একটি বিশ্বাস প্রচলিত আছে যে, শিবলিঙ্গে সরাসরি নিবেদন করা প্রসাদ গ্রহণ করা উচিত নয়। কিন্তু এর কারণ কী? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
শিবলিঙ্গ হল ভগবান শিবের একটি রূপ এবং এটি সবচেয়ে প্রচলিত পূজিত রূপগুলির মধ্যে অন্যতম। শ্রাবণ মাসে এবং এমনকি সাধারণ দিনগুলিতেও, শিবলিঙ্গে যে প্রসাদ নিবেদন করা হয়, তাতে সাধারণত গঙ্গাজল, দুধ, মধু, চন্দন বাটা, ফল এবং ফুল থাকে। তবে, নিবেদন করা ফল ও ফুল ভক্তদের ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। অভিষেকের সময় এই জিনিসগুলি শিবলিঙ্গের উপর রাখার পর পুরোহিতরা সেগুলিকে প্রবাহিত হতে দেন। এর কারণ কী? সবচেয়ে বিখ্যাত লোকগাঁথা অনুযায়ী, পরজগতের প্রাণীদের প্রধান চণ্ডেশ্বরের কারণে এই প্রসাদ গ্রহণ করা উচিত নয়।
বলা হয় যে ভগবান শিবের মুখে চণ্ডেশ্বর বাস করেন, যিনি প্রেতাত্মাদের প্রধান ছিলেন। তাই, ভগবান শিবের মুখ স্পর্শ করা যে কোনও প্রসাদ চণ্ডেশ্বর এবং তার বংশের জন্য বরাদ্দ। চণ্ডেশ্বরের কাছ থেকে কিছু নেওয়া পাপ বলে গণ্য হয় এবং বিশ্বাস করা হয় যে ভক্ত এমন কিছু নিচ্ছে যা ন্যায়সঙ্গতভাবে ভগবান শিবের একটি অংশের মালিকানাধীন। অর্থাৎ, শিবলিঙ্গে নিবেদন করা কোনও কিছুই গ্রহণ করা উচিত নয়, কারণ তা চণ্ডেশ্বরের সম্পত্তি।
শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যাও এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বেশ কিছু শৈব ঐতিহ্য অনুসারে, শিবলিঙ্গে নিবেদনকে ত্যাগ হিসেবে গণ্য করা হয়। যার অর্থ এগুলি সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের কাজ। একবার নিবেদন করা হলে, সেই বস্তুটি আর ভক্তের থাকে না। অন্যান্য দেবদেবীকে নিবেদন করা প্রসাদের মতো নয়, শিবের উদ্দেশ্যে নিবেদিত বস্তুগুলি তাঁর কাছেই থাকার জন্য বা শাস্ত্রীয়ভাবে বিসর্জন দেওয়ার জন্য নির্ধারিত।
ভক্তদের কেন প্রসাদ গ্রহণ করা উচিত নয় তার আরও একটি কারণ হল সমুদ্র মন্থনের গল্প। বিশ্বাস করা হয় যে, সমুদ্র মন্থন থেকে উদ্ভূত বিষ যখন ভগবান শিব পান করেছিলেন, তখন তিনি এটিকে তাঁর পুরো শরীরে পৌঁছতে দেননি এবং নিজের কণ্ঠেই আটকে রেখেছিলেন। আর তখনই তিনি ‘নীলকণ্ঠ’ নামে পরিচিত হন, কারণ বিষের প্রভাবে তাঁর গলা নীল হয়ে গিয়েছিল। সেই থেকে বিশ্বাস করা হয় যে, বিষ এবং সেটির কিছু বৈশিষ্ট্য চিরস্থায়ীভাবে তাঁর গলা এবং শিবলিঙ্গের মধ্যে গেঁথে আছে। তাই, যখন আপনি শিবলিঙ্গে নিবেদিত প্রসাদ গ্রহণ করেন, তখন তাতে বিষের কিছু বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে।
(এই প্রতিবেদনটি প্রচলিত বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে লেখা। এখানে প্রদত্ত তথ্য ও তথ্যের সত্যতা যাচাই আজকাল ডট ইন করেনি।)
