আজকাল চুল পড়া একটি খুব সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কম বয়স থেকেই অনেকের চুল ঝরে যাচ্ছে, অকালে দেখা দিচ্ছে টাক। এই সমস্যা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে আট থেকে আশি। নিয়মিত শ্যাম্পু ব্যবহার করেও লাভ হচ্ছে না! আসলে বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুল শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুল পড়া কমার বদলে আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই সঠিক শ্যাম্পু বেছে নেওয়া খুব জরুরি।
চুলের যত্নে শ্যাম্পুর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ঠিকই, কিন্তু শ্যাম্পু একা চুল পড়া পুরোপুরি বন্ধ করতে পারে না। আর ভুল শ্যাম্পু মাথার ত্বক শুষ্ক করে, চুলের গোড়া দুর্বল করে দেয়। এর ফলে চুল সহজেই ভেঙে পড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্যাম্পু কেনার সময় প্রথমেই নজর দেওয়া উচিত এর উপাদানের দিকে। অনেক শ্যাম্পুতে সালফেট ও প্যারাবেনের মতো কড়া রাসায়নিক থাকে। এগুলি চুল পরিষ্কার করলেও মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট করে দেয়। এতে স্ক্যাল্প শুষ্ক হয়, চুল রুক্ষ হয়ে পড়ে এবং চুল পড়ার সমস্যা বাড়ে। তাই সম্ভব হলে সালফেট-মুক্ত বা মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল শ্যাম্পুর পিএইচ মাত্রা। মাথার ত্বকের স্বাভাবিক পিএইচ ৪.৫ থেকে ৫.৫-এর মধ্যে থাকে। এই ভারসাম্য নষ্ট হলে খুশকি, চুলকানি ও অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই পিএইচ ব্যালান্সড শ্যাম্পু বেছে নেওয়া ভাল।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিজের চুল ও স্ক্যাল্পের ধরন বুঝে শ্যাম্পু নির্বাচন করা সবচেয়ে জরুরি। যাঁদের স্ক্যাল্প তেলতেলে, তাঁদের হালকা ক্লিনজিং শ্যাম্পু দরকার। আর যাঁদের চুল শুষ্ক বা রুক্ষ, তাঁদের ময়েশ্চারাইজিং শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত।
শ্যাম্পুতে যদি বায়োটিন, কেরাটিন, প্রোটিন, অ্যালোভেরা বা নারকেল তেলের মতো উপাদান থাকে, তাহলে তা চুলের পুষ্টিতে সাহায্য করে। তবে এগুলো কোনও জাদু নয়, নিয়মিত ও সঠিকভাবে ব্যবহার করলেই উপকার পাওয়া যায়।
শুধু শ্যাম্পু বাছাই নয়, ব্যবহারের পদ্ধতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। খুব গরম জল দিয়ে চুল ধোওয়া, জোরে ঘষাঘষি করা বা প্রতিদিন শ্যাম্পু করলে চুল আরও দুর্বল হতে পারে। সপ্তাহে ২–৩ দিন শ্যাম্পু করাই যথেষ্ট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হঠাৎ খুব বেশি চুল পড়া, মাথার মাঝখানে ফাঁক দেখা দেওয়া বা চুল দ্রুত পাতলা হয়ে গেলে শুধু শ্যাম্পু বদলানো যথেষ্ট নয়। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
