বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দুর্বল হতে থাকে। যার মধ্যে হৃদপিণ্ড সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। ৬০–৭০ বছরের পর উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল বা হার্ট অ্যাটাকের মতো সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন বেশিরভাগ মানুষ। অল্প বয়সেই হানা দেয় এই ধরনের ক্রনিক রোগ। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে ৭০ বছরের পরেও হৃদপিণ্ড একেবারে সুস্থ ও সক্রিয় রাখা সম্ভব।

১. প্রতিদিন শরীরচর্চাঃ চিকিৎসকরা বলছেন, বয়স যতই হোক না কেন, শরীরকে সচল রাখা জরুরি। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম যেমন সকালে আধঘণ্টা হাঁটা, যোগাভ্যাস বা স্ট্রেচিং শরীরের রক্তসঞ্চালন ভাল করে, বাড়তি চর্বি কমায় এবং হার্টকে মজবুত রাখে।

আরও পড়ুনঃ সারাক্ষণ রিল দেখেন? ফোন স্ক্রল করে কাটিয়ে দেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা? ৫ কৌশল মানলেই নেশা কাটাতে পারবেন

২. সঠিক খাবার নির্বাচনঃ বয়স বাড়লে ভারী, তেল-মশলাদার বা প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। বদলে বেশি করে শাকসবজি, মরশুমি ফল, ডাল, ওটস, বাদাম ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়া দরকার। নুন ও চিনি কম খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

৩. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণঃ অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা হার্টের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। নিয়মিত মেডিটেশন, শান্ত সুরের গান শোনা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো বা নিজের শখ পূরণ করলে মন স্থির থাকে এবং হৃদপিণ্ডও সুস্থ থাকে।

৪. পর্যাপ্ত ঘুমঃ বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬ থেকে ৭ ঘণ্টার ভাল মানের ঘুম বয়স্কদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। যথেষ্ট ঘুম না হলে রক্তচাপ বেড়ে যায়, হার্টের ওপর চাপ পড়ে এবং বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

আরও পড়ুনঃ মাত্র ১৫ দিনে গায়েব হবে ইউরিক অ্যাসিডের তাণ্ডব! রোজ নিয়ম করে এই পানীয় খেলেই দেখবেন কামাল

৫. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাঃ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে নানা পরিবর্তন আসে। তাই সময়মতো ডাক্তার দেখানো এবং রুটিন চেকআপ যেমন—রক্তচাপ, সুগার, কোলেস্টেরল, ইসিজি করা উচিত। এতে রোগ আগেভাগে ধরা পড়ে এবং সঠিক চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয়।

মনে রাখবেন, হৃদযন্ত্রের সুস্থতা নির্ভর করে জীবনযাত্রার ওপর। বয়স যতই হোক না কেন, সঠিক ডায়েট, শরীরচর্চা ও মানসিক শান্তি বজায় রাখলে ৭০-এর পরেও হার্ট থাকবে পারে তরতাজা।