আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রত্যেক জীবের মৃত্যু অনিবার্য। যার জন্ম হয়েছে, তার মৃত্যু হবেই। তবে মৃত্যু ঠিক কবে এবং কীভাবে আসবে, তা আমরা কেউ জানি না। যখন-যেভাবেই আসুক, মৃত্যু একদিন আসবেই। জন্ম এবং মৃত্যু এই দুই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সত্যি আমরা কেউ পরিবর্তন করতে পারি না। কিন্তু মৃত্যুর পর আত্মার কী হয়? কখনও ভেবে দেখেছেন আত্মা কীভাবে দেহত্যাগ করে? এই সমস্ত ব্যাখ্যাই রয়েছে গরুঢ় পুরাণে। আর সেই ব্যাখ্যাকে মান্যতা দিয়েছে বিজ্ঞানও। 

হিন্দু ধর্ম অনুসারে মৃত্যুতে আমাদের শুধু শরীর বিনষ্ট হয়। আত্মা অবিনশ্বর। হিন্দুধর্মের অন্যতম শাস্ত্রগ্রন্থ হল গরুঢ় পুরাণ। এই শাস্ত্রে মৃত্যু ও মৃত্যুর পরের অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, মৃত্যুর পর শরীরের ৯টি অংশের মাধ্যমে দেহত্যাগ করে। আর এই তত্ত্বকেই সহমত হয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, আত্মা দেহত্যাগ করলেই প্রাণীর মৃত্যু ঘটে। আমাদের শরীরে নয়টি দরজা রয়েছে। যা হল - দুটি চোখ, দুটি কান, নাকের দুই ছিদ্র, মুখ ও পায়ুদ্বার ও যোনিমুখ। এর মধ্যে কোনও অঙ্গ দিয়ে আত্মার শরীরের বাইরে বেরোনো শুভ ও অশুভ তাও জানিয়েছে গরুঢ় পুরাণ। সেক্ষেত্রে মূলত কর্মফলের ভিত্তিতেই কোন দ্বার দিয়ে আত্মার প্রস্থান ঘটবে তা নির্ধারিত হয়। 

যেমন পুরাণ অনুযায়ী মনে করা হয়, যে ব্যক্তির চোখ দিয়ে আত্মা বাইরে বেরিয়ে আসে, তাঁর আরও বাঁচার ইচ্ছা ছিল। মৃত্যুর সময়ে নিজের জীবন ও পরিবারের প্রতি মায়া সেই ব্যক্তি তখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি। কারওর আত্মা নাক দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। নাক দিয়ে আত্মার নির্গত হওয়া শুভ বলে মনে করা হয়। গরুঢ় পুরাণ অনুসারে, যে ব্যক্তি নিজের যাবতীয় দায় দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন, তাঁর আত্মা নাক দিয়ে নির্গত হয়। মুখ দিয়ে আত্মার বেরিয়ে আসাও শুভ বলে মনে করা হয়। যে ব্যক্তি জীবনে ধর্মের পথে চলেন, তাঁর আত্মা মুখ দিয়ে নির্গত হয় বলে কথিত রয়েছে। 

আবার যিনি শুধু অর্থ রোজগারের জন্য জীবন কাটিয়েছেন, আর সমাজের কারওর জন্য কিছুই করেন নি, মৃত্যুর পর তাঁর আত্মা পায়ুদ্বার বা যোনিমুখ দিয়ে নির্গত হয়। শরীরের এই অংশ দিয়ে আত্মার বেরোনো অশুভ বলে মনে করা হয়।