মহাকাশের গভীরে এমন এক আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা, যা জীবনের উৎপত্তি সম্পর্কে নতুন দিশা দেখাতে পারে। গবেষণায় প্রথমবার আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাশূন্যে (Interstellar Medium) 'এরিথ্রুলোজ' (Erythrulose) নামে এক ধরনের চিনির অণুর সন্ধান মিলেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি এবং মহাবিশ্বের অন্য কোথাও জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এরিথ্রুলোজ একটি চার-কার্বনযুক্ত সরল শর্করা। এটি সরাসরি জীবনের জন্য অপরিহার্য নয়৷ কিন্তু এই অণুকে এমন কিছু জৈব অণুতে রূপান্তরিত হতে পারে, যা পৃথিবীতে প্রাণের সূচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করা হয়। অর্থাৎ, জীবনের মৌলিক উপাদানগুলির একটি অংশ হয়তো মহাকাশেই তৈরি হয়েছিল। এর আগেও উল্কাপিণ্ড এবং গ্রহাণুর নমুনায় রাইবোজ ও গ্লুকোজের মতো শর্করার সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। তবে আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাশূন্যে এই ধরনের প্রকৃত চিনির অণু শনাক্ত হওয়া বিজ্ঞানীদের কাছে এক নতুন মাইলফলক।
এই চিনির অণুটি মিল্কিওয়ে ছায়াপথের কেন্দ্রের কাছে অবস্থিত G+0.693-0.027 নামে একটি বিশাল গ্যাস ও ধূলিকণার মেঘে শনাক্ত করা হয়েছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে নেচার অ্যাস্ট্রোনমি নামক পত্রিকায়৷
এটি প্রমাণ করে, নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরি হওয়ার আগেই মহাকাশে জটিল জৈব যৌগ তৈরি হতে পারে।
গবেষকদের ধারণা, কোটি কোটি বছর আগে ধূমকেতু বা গ্রহাণুর মাধ্যমে এই ধরনের জৈব অণু পৃথিবীতে এসে পৌঁছাতে পারে। সেই উপাদানগুলিই পরবর্তীকালে প্রাণের বিকাশে সহায়ক হয়েছিল। ফলে মহাবিশ্বের অন্য গ্রহেও যদি একই ধরনের রাসায়নিক পরিবেশ থাকে, তবে সেখানে প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এই আবিষ্কার ভিনগ্রহের প্রাণের অস্তিত্বের সরাসরি প্রমাণ নয়। তবে এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান মহাবিশ্বে আগের তুলনায় অনেক বেশি বিস্তৃত হতে পারে। বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য এখন আরও জটিল জৈব অণুর সন্ধান করা, যাতে প্রাণের উৎপত্তির রহস্য আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।
















