বয়সের সংখ্যাকে যেন পাত্তাই দেন না রবিনা ট্যান্ডন। ৫৩ বছর বয়সেও তাঁকে দেখলে অনেকের মনে প্রশ্ন আসে, এত ফিট, সতেজ ও সুন্দর থাকার রহস্য কী? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের প্রতিদিনের খাবারের তালিকা নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী। তাঁর ডায়েট শুনে বোঝা যায়, ফিট থাকতে কোনও কঠিন ডায়েট নয়, বরং সহজ ও নিয়মিত খাবারের অভ্যাসই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন। 

রবিনা জানিয়েছেন, প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই তিনি গরম জল পান করেন। সেই জলে মিশিয়ে নেন হলুদ। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক, তাঁদের নিজস্ব খামারে উৎপাদিত হলুদ ব্যবহার করেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, এই অভ্যাস শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং দিনের শুরুটা ভালভাবে করতে সহায়ক।

সকালের খাবারে রবিনার ব্রেকফাস্টে থাকে আদা দেওয়া চা, টোস্ট, একটি ফল। কখনও কখনও তিনি একটি ডিম খান প্রোটিনের জন্য। অভিনেত্রী মনে করেন, সকালের খাবার হালকা কিন্তু পুষ্টিকর হওয়াই ভাল। 

মিড মর্নিং-এ অর্থাৎ সকাল ১১টা নাগাদ আবার খিদে পেলে রবিনা ফল খান। সাধারণত তিনি ডালিম, আনারস বা মরশুমি ফল বেছে নেন। অনেকেই ফল খেলে ওজন বাড়ে বলে ভয় পান, কিন্তু রবিনার মতে, পরিমাণ মেনে ফল খেলে কোনও ক্ষতি হয় না, বরং শরীর সুস্থ থাকে।

দুপুরের খাবারেও রবিনা ভরসা রাখেন ঘরোয়া রান্নায়। তাঁর প্লেটে থাকে ডাল, সবজি, রুটি। তিনি বলেন, “ঘরের খাবারেই আমার শরীর ভাল থাকে। বাইরের ভারী খাবারের দরকার নেই।” 

বিকেলে হালকা স্ন্যাকস খেতে পছন্দ করে রবিনা। বিকেলের দিকে খিদে পেলে তিনি ভাজাভুজি বা ফাস্টফুড এড়িয়ে চলেন। তাঁর পছন্দের স্ন্যাকস হল ছোলাভাজা, চিনাবাদাম, মুড়ি, মাখানা। এই খাবারগুলো হালকা, পুষ্টিকর এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে।

সন্ধ্যা ও রাতের খাবার খুব হালকা রাখেন রবিনা। তিনি জানিয়েছেন, সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাধারণত ঘরে তৈরি স্যুপ খান। যেমন টমেটো, মাশরুম বা লাউয়ের স্যুপ। রাতের খাবারও খুব ভারী করেন না, যাতে হজমে সমস্যা না হয়।

রবিনা টন্ডনের মতে, প্রাকৃতিক ও ঘরে তৈরি খাবার খাওয়া, সঠিক সময় মেনে খাওয়া, অতিরিক্ত না খাওয়া, নিয়মিত স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়া তোলাই ফিটনেসের আসল রহস্য। রবিনা ট্যান্ডনের ডায়েট রুটিন প্রমাণ করে দেয়, সুস্থ ও ফিট থাকতে দামি খাবার বা কঠিন ডায়েট নয়,সহজ খাবার আর নিয়মই সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।