আধুনিক জীবনযাত্রায় অল্প বয়সেই শরীরে বাসা বাঁধছে জটিল রোগ। নেপথ্যে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চার অভাব, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা সহ বিভিন্ন কারণ। কয়েক বছর আগেও কমবয়সিদের মধ্যে কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা যেত না। কিন্ত ইদানীং বয়স ৪০ পার হতে না হতেই কোলেস্টেরলের কারণে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে কপালে। আসলে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়লে রক্তে ভাসতে থাকা চটচটে পদার্থগুলি একটা সময়ে ধমনীর গায়ে আটকে যায়। ফলে শরীরে রক্ত চলাচল করতে বাধা পাওয়ায় নানা সমস্যা শুরু হয়। এককথায় শরীরের-স্বাস্থ্যের সঙ্গে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও অন্যান্য হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। 

শরীরে কোলেস্টেরল বাড়তে থাকলে কিছু নির্দিষ্ট অংশে ব্যথা বা অস্বস্তি দেখা দেয়। যা অধিকাংশ মানুষই অবহেলা করে থাকেন। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের কিছু লক্ষণ খুব সাধারণ মনে হলেও তা উচ্চ কোলেস্টেরলের গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হতে পারে। যা শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করলে বিপদ এড়ানো সম্ভব। সেক্ষেত্রে কোনও কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন? জেনে নিন- 

আরও পড়ুনঃ অতিরিক্ত হলুদ খাওয়ার অভ্যাস? নিঃশব্দে ঝাঁঝরা হয়ে যাচ্ছে না তো শরীর! জানেন ঘনিয়ে আসতে পারে কোন চরম বিপদ?

•    পায়ে ব্যথা বা হাঁটতে সমস্যাঃ রক্তনালিতে কোলেস্টেরল জমে গেলে পায়ে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। একে বলে পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ (পিএডি) এর ফলে হাঁটার সময় পায়ে টান বা ব্যথা অনুভব হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ হাঁটার পর পায়ে যন্ত্রণা হওয়া এবং বিশ্রাম নিলে তা সেরে যাওয়া পিএডি-এর অন্যতম লক্ষণ।

•    রাতে পায়ে খিঁচুনি বা টানঃ রাতে শোওয়ার সময় পায়ে হঠাৎ টান লাগা বা খিঁচুনি হওয়া, বিশেষ করে পায়ের তালু বা পেশিতে এমন হলে সেটিও কোলেস্টেরলজনিত রক্তনালী সংকোচনের কারণে হতে পারে। এক্ষেত্রে পা ঝুলিয়ে রাখলে রক্ত প্রবাহ কিছুটা স্বাভাবিক হয় বলে খানিকটা স্বস্তি পাওয়া যায়। 

•    পায়ে চিনচিনে ব্যথাঃ মাঝে মাঝেই কি পায়ে চিনচিনে ব্যথা শুরু হয়? পা এবং পায়ের পাতা অবশ হয়ে যায়? পায়ের রক্তনালিতে কোলেস্টেরল জমা হওয়ার কারণেও এমনটা হতে পারে। পায়ে চিনচিনে ব্যথাও হতে পারে। বিশেষ করে রাতে ঘুমোনোর সময় এমনটা বেশি হয়।

•    বুকে ব্যথা বা চাপঃ বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব করা কোলেস্টেরলের একটি প্রধান এবং গুরুতর লক্ষণ। আসলে হৃদযন্ত্রের ধমনীতে কোলেস্টেরল জমা হওয়ার ফলে বুকে চাপ পড়ে, যা জ্বালাপোড়া বা টানটান অনুভূতি হয়। এই ধরনের লক্ষণগুলো হার্ট অ্যাটাক বা করোনারি ধমনী রোগ (সিএডি) এর হতে পারে।

•    ঘাড়, চোয়াল বা কাঁধে ব্যথাঃ কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পেলে ঘাড়ের চারপাশে ব্যথা হতে পারে। আসলে কোলেস্টেরল বাড়লে পুরো শরীরের রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে শুরু করে, যার ফলে ঘাড়ের চারপাশে বা চোয়াল এবং কাঁধে অস্বাভাবিক ব্যথা অনুভূত হয়। যা অনেক সময়ে টান বা পেশী ব্যথার মতো অনুভূত হয়। 

•    পায়ে ঠান্ডা ভাব বা অসাড়তাঃ একটি বা দুটি পায়ে হঠাৎ ঠান্ডা অনুভব করলে তা পায়ের রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ার ফল হতে পারে। এমন অবস্থায় ত্বকেও ফ্যাকাসে বা নীলচে হয়ে যাওয়ার মতো রঙের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।