আমরা অনেকেই মনে করি, হাড়ের সমস্যা শুধু বার্ধক্যেই হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, ভুল জীবনযাপন এবং কিছু দৈনন্দিন অভ্যাসের কারণে কম বয়সেও হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে কিছু ভুল অভ্যাস চলতে থাকলে হাড়ের ঘনত্ব কমে যেতে পারে, হাড় ভঙ্গুর হয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই ছোট থেকেই হাড়ের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।


শরীরের ওজন ধরে রাখা, হাঁটাচলা করা, শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিকে সুরক্ষা দেওয়ার কাজ করে হাড়। কিন্তু আমাদের প্রতিদিনের কিছু অভ্যাস অজান্তেই হাড়ের ক্ষতি করতে পারে। চিকিৎসকেরা এমন ৫টি অভ্যাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। 


১. সারাদিন বসে থাকা: বর্তমান সময়ে অফিসের কাজ, মোবাইল দেখা বা টিভি দেখার কারণে অনেকেই দীর্ঘক্ষণ বসে থাকেন। শারীরিক পরিশ্রম কম হলে হাড়ের উপর প্রয়োজনীয় চাপ পড়ে না। ফলে ধীরে ধীরে হাড়ের শক্তি কমতে পারে। নিয়মিত হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার করা, যোগব্যায়াম বা হালকা শরীরচর্চা হাড়কে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ওজন বহনকারী ব্যায়াম হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।


২. রোদে কম থাকা: শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি হওয়ার অন্যতম প্রাকৃতিক উৎস হল সূর্যের আলো। ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে। আর ক্যালসিয়াম হল হাড়ের প্রধান উপাদান।যারা বেশিরভাগ সময় ঘরের মধ্যে থাকেন বা রোদ এড়িয়ে চলেন, তাঁদের শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ফলে হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সকালে কিছুক্ষণ রোদে থাকা উপকারী হতে পারে।


৩. খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব: হাড় শক্ত রাখতে শুধু ক্যালসিয়াম নয়, ভিটামিন ডি, প্রোটিন ও অন্যান্য খনিজ উপাদানও প্রয়োজন। কিন্তু অনেকের খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি থাকে। দুধ, দই, পনির, ডিম, মাছ, বাদাম, তিল এবং সবুজ শাকসবজির মতো খাবার হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। নিয়মিত সুষম খাবার খেলে হাড় দীর্ঘদিন শক্ত থাকতে পারে।


৪. অতিরিক্ত চা-কফি ও কোল্ডড্রিঙ্ক পান করা: অনেকেই দিনে একাধিক কাপ চা বা কফি পান করেন। অল্প পরিমাণে এগুলি সমস্যা না করলেও অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরের ক্যালসিয়ামের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

 

৫. ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান: ধূমপান শুধু ফুসফুস নয়, হাড়ের উপরও খারাপ প্রভাব ফেলে। এটি হাড় তৈরির স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধা দিতে পারে। একইভাবে অতিরিক্ত অ্যালকোহল শরীরে ক্যালসিয়ামের ব্যবহার ও হাড়ের গঠনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।


চিকিৎসকদের মতে, হাড়ের যত্ন নেওয়ার জন্য বড় কোনও পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন একটু হাঁটা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত রোদ পাওয়া এবং ক্ষতিকর অভ্যাস এড়িয়ে চললেই হাড় অনেকদিন সুস্থ রাখা সম্ভব। বয়স বাড়ার আগেই হাড়ের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন হওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।