আজকাল খাবার গরম করা থেকে ঝটপট রান্না করার জন্য আজকাল অনেকেরই ভরসা মাইক্রোওয়েভ ওভেন। যার জন্য অনেকেই প্লাস্টিকের পাত্র ব্যবহার করেন। কিন্তু জানেন কি এই মাইক্রোওয়েভ ওভেনে প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার গরম করা স্বাস্থ্যের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। আসলে প্লাস্টিক থেকে কিছু ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ খাবারের সঙ্গে মিশে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
অনেক প্লাস্টিক পাত্রে লেখা থাকে 'মাইক্রোওয়েভ ওয়েভ সেভ'। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মানে শুধু পাত্রটি গরম হলে গলে যাবে না বা বিকৃত হবে না। তবে এটি নিশ্চিত করে না যে খাবারে কোনও রাসায়নিক পদার্থ বা ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা মিশবে না। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য মাইক্রোওয়েভে গরম করলেও পাত্র থেকে খাবারে কোটি কোটি ছোট ছোট প্লাস্টিক কণা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্লাস্টিক পাত্রে থাকা কিছু রাসায়নিক যেমন বিপিএ (বিসফেনল এ) এবং থ্যালেটস গরম হয়ে খাবারের মধ্যে যেতে পারে। এগুলো হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং দীর্ঘদিনের ব্যবহার ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, প্রজনন সমস্যা বা অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এই ঝুঁকি আরও বেশি।
অনেক প্লাস্টিক পাত্রে এখন লেখা থাকে 'বিপিএ ফ্রি' কিন্তু এতে বিপিএ বাদ দিয়ে অন্য অনুরূপ রাসায়নিক যেমন বিপিএস বা বিপিএফ ব্যবহার করা হয়। এগুলোও শরীরের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শুধুমাত্র 'বিপিএ ফ্রি' লেখা মানেই নিরাপদ বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে খাবার গরম করার জন্য গ্লাস বা সিরামিক পাত্র ব্যবহার করুন। যদি প্লাস্টিক ব্যবহার করতে হয়, তাহলে নিশ্চিত করুন তা সত্যিই মাইক্রোসেভ কিনা কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। গরম করার সময় পাত্রের ঢাকনা খুলে রাখুন, যাতে বাষ্প বাইরে চলে যায়। পুরনো, ফাটা বা ভাঁজ হওয়া প্লাস্টিক পাত্র কখনো ব্যবহার করবেন না।
প্লাস্টিক পাত্র ব্যবহার করা সহজ হলেও দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই সম্ভব হলে গ্লাস বা সিরামিক পাত্রে খাবার গরম করা সবচেয়ে নিরাপদ। এই ছোট পরিবর্তনই দৈনন্দিন অভ্যাসকে আরও স্বাস্থ্যসম্মত করে তুলতে পারে।
