আজকের ব্যস্ত জীবনে উদ্বেগ খুবই সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজের চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব, আর্থিক চিন্তা কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা-সব মিলিয়ে অনেকেই সারাক্ষণ মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে মানুষ মনে করেন, এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে ওষুধই একমাত্র উপায়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সহজ দৈনন্দিন অভ্যাস বদলালেই ওষুধ ছাড়াও উদ্বেগ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। চিকিৎসকেরা বলেন, আমাদের শরীর ও মন একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই দৈনন্দিন জীবনে ছোট কিছু পরিবর্তন আনলেই মানসিক চাপ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।

*প্রথমত সকালের সূর্যালোক খুব গুরুত্বপূর্ণ। সকালে অন্তত ১০–১৫ মিনিট খোলা জায়গায় সূর্যের আলোয় থাকলে শরীরের ঘুম ও জেগে থাকার ঘড়ি ঠিক থাকে। এতে মুড ভাল হয় এবং অকারণ দুশ্চিন্তা কমে। সকালে হাঁটাহাঁটি করলে এর উপকার আরও বেশি পাওয়া যায়।

*সময়ে খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে শরীরে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায়। এর ফলে বুক ধড়ফড় করা, অস্থিরতা বা ভয় লাগার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে, যাকে অনেক সময় অ্যাংজাইটি বলে ভুল মনে হয়। তাই দিনে নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খেলে এই সমস্যা কমে।

*ভাল ঘুম মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বড় ওষুধ। নিয়মিত কম ঘুম হলে মস্তিষ্ক ঠিকভাবে বিশ্রাম পায় না, ফলে উদ্বেগ বাড়ে। প্রতিদিন অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করা উচিত। রাতে ঘুমানোর আগে মোবাইল বা টিভি এড়িয়ে চললে ঘুম ভাল হয়।

*ক্যাফেইন কমানো দরকার। অতিরিক্ত চা বা কফি স্নায়ুকে উত্তেজিত করে তোলে, যার ফলে অস্থিরতা ও দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে। যাঁরা খুব বেশি অ্যাংজাইটি অনুভব করেন, তাঁদের ক্যাফেইন সীমিত রাখাই ভাল।

*নিয়মিত হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি। সারাদিন বসে কাজ করলে শরীরে ও মনে টান তৈরি হয়। দিনে ২০–৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করলে শরীরে ‘ভাল লাগার হরমোন’ নিঃসৃত হয়, যা উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে।

*স্ক্রিন টাইম কমানো জরুরি। সারাক্ষণ মোবাইল, সোশ্যাল মিডিয়া বা খবর দেখলে মস্তিষ্কে অতিরিক্ত তথ্য জমে যায়, যা মানসিক চাপ বাড়ায়। বিশেষ করে ঘুমের আগে ফোন ব্যবহার না করাই ভাল।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, অ্যাংজাইটি সবসময় ওষুধের ওপর নির্ভর করে কমাতে হবে, এমন নয়। নিয়মিত জীবনযাপন, সঠিক ঘুম, খাবার ও কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মানসিক চাপ অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। তবে যদি উদ্বেগ খুব বেশি হয় বা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে, সেক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।