গোয়েন্দা থেকে চতুর খুনি! রোমান্টিক নায়কের বাইরে এ কেমন উত্তম? 'মহানায়ক'-এর সেরা ৯ রূপ
নিজস্ব সংবাদদাতা
২৪ জুলাই ২০২৬ ১৮ : ৫৯
শেয়ার করুন
1
10
উত্তমকুমার কেবল রোমান্টিক 'চকলেট বয়' বা কমার্শিয়াল বক্স-অফিস সফল 'মহানায়ক' ছিলেন না। তিনি ছিলেন এক বহুমুখী অভিনেতা, যিনি নিজের চেনা কমফোর্ট জোন ভেঙে ধূসর , জটিল ও খলচরিত্রে নিজেকে বারবার মেলে ধরেছেন। সত্যজিৎ রায় থেকে তপন সিংহ—এর মতো প্রখ্যাত পরিচালকেরা তাঁর এই সহজাত অভিনয় দক্ষতা ব্যবহার করে ফুটিয়ে তুলেছেন শহুরে মানসিক দ্বন্দ্ব, মানুষের জটিলতা ও চরিত্রগত ত্রুটিগুলোকে।
2
10
নায়ক (১৯৬৬): সত্যজিৎ রায় নির্দেশিত এই ছবিতে অরিন্দম মুখোপাধ্যায়ের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজের ভেতরের একাকীত্ব, অনিশ্চয়তা ও ভয়কে পর্দায় ফুটিয়ে তোলেন। সাক্ষী শর্মিলা ঠাকুর। হলিউড তারকা-অভিনেত্রী এলিজাবেথ টেলরের প্রশংসা লাভ করা এই পারফরম্যান্স 'ফর্বস ইন্ডিয়া'-র ভারতীয় সিনেমার ২৫টি সর্বকালের সেরা অভিনয়ের তালিকায় জায়গা করে নেয়।
3
10
শেষ অঙ্ক (১৯৬৩): হরিদাস ভট্টাচার্য পরিচালিত এই রহস্য-থ্রিলারে শর্মিলা ঠাকুরের বিপরীতে উত্তম কমার এক ঠান্ডা মাথার, ম্যানিপুলেটিভ খুনির চরিত্রে অভিনয় করে দর্শককে চমকে দিয়েছিলেন।
4
10
বাঘ বন্দি খেলা (১৯৭৫): পীযূষ বসু পরিচালিত এই ছবিতে ভবেশ বন্দ্যোপাধ্যায় নামক এক দুর্নীতিগ্রস্ত, লোভী ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতার খলচরিত্রে অভিনয় করে তিনি অ্যান্টি-হিরো হিসেবে নিজের অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ দেন।
5
10
সবার উপরে (১৯৫৫): একজন লড়াই করা আইনজীবীর চরিত্রে, যিনি জানতে পারেন তাঁর বাবা দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যা খুনের মামলায় সাজা খাটছেন। সত্যি প্রকাশের পাশাপাশি বাবার মুক্তির জন্য নিজের জীবন বাজি রাখার এই চরিত্রটি উত্তম কুমারের অন্যতম শক্তিশালী কাজ।
6
10
চিড়িয়াখানা (১৯৬৭): সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় আইকনিক বাঙালি গোয়েন্দা ব্যোমকেশ বক্সী চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। রহস্য উদঘাটনে তাঁর ক্ষুরধার এবং সাবলীল অভিনয় তাঁকে এনে দেয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (সেরা অভিনেতা)।
7
10
থানা থেকে আসছি ( ১৯৬৫): পদদ্মপুকুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর তিনকড়ি হালদারের চরিত্রে এক রহস্যময় তদন্তকারীর ভূমিকায় দেখা যায় তাঁকে। এক তরুণীর আত্মহত্যার তদন্তে গিয়ে অভিজাত পরিবারের ভণ্ডামি ও নৈতিক পতন একে একে প্রকাশ্যে আনেন তিনি।
8
10
অগ্নিশ্বর (১৯৭৫): অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় পরিচালিত এই ছবিতে একজন নীতিবান, দেশপ্রেমিক ও আপসহীন ডাক্তার অগ্নীশ্বর মুখোপাধ্যায়ের চরিত্রে তিনি চিকিৎসা জগতের দুর্নীতি, সামাজিক কুসংস্কার ও উদাসীনতার বিরুদ্ধে লড়াই করেন।
9
10
ধন্যি মেয়ে (১৯৭১): অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের এই স্পোর্টস-কমেডি ছবিতে সর্বমঙ্গলা ক্লাবের ম্যানেজার ও নায়ক বগলার (পার্থ মুখোপাধ্যায়) বড় দাদা 'কালী দত্ত'-র চরিত্রে দারুণ অভিনয় করেন উত্তম কুমার। জয়া বচ্চন (তখন ভাদুড়ি)-এর সঙ্গে উত্তমের খুনসুটির রসায়ন দেখে মুগ্ধ হননি এমন দর্শক বিরল।
10
10
মৌচাক (১৯৭৪): রঞ্জিত মল্লিক, মিঠু মুখোপাধ্যায় ও সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে এই ক্ল্যাসিক রোমান্টিক কমেডিতে নিতীশ নামক একজন দায়িত্বশীল, পরিপক্ব গৃহকর্তার চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি, যা পরিবারের নানা হাসির ঘটনার মাঝে এক অদ্ভুত ভারসাম্য বজায় রাখে। বাড়ির বড় দাদা যে একধারে অভিভাবক এবং অন্যধারে চূড়ান্ত রসিক -এককথায় উত্তম ছিলেন অপূর্ব।