স্কুলে বা টিউশনে অনেক শিশুই বুলিংয়ের শিকার হয়। কেউ শারীরিকভাবে ধাক্কা দেয়, কেউ অপমানজনক কথা বলে, আবার কেউ ইচ্ছে করে একঘরে করে রাখে। কিন্তু সব শিশু এই অভিজ্ঞতার কথা বাবা-মাকে বলতে পারে না। অনেকেই ভয় পায়, লজ্জা পায় বা মনে করে অভিযোগ করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। তাই অভিভাবকদের সন্তানের আচরণে ছোট ছোট পরিবর্তনের দিকেও নজর রাখা খুব জরুরি। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের ৬টি লক্ষণ দেখলে বুঝতে হবে শিশুটি হয়তো বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে।
১. স্কুলে যেতে না চাওয়াঃ যে শিশু আগে আনন্দের সঙ্গে স্কুলে যেত, সে যদি হঠাৎ প্রতিদিন স্কুলে না যাওয়ার অজুহাত খুঁজতে শুরু করে, পেটব্যথা বা মাথাব্যথার কথা বলে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখুন। অনেক সময় বুলিংয়ের ভয় থেকেই এমন আচরণ দেখা যায়।
২. আচরণে হঠাৎ পরিবর্তনঃ শিশু যদি আগের মতো হাসিখুশি না থাকে, চুপচাপ হয়ে যায়, একা থাকতে চায় বা পরিবারের সঙ্গে কথাবার্তা কমিয়ে দেয়, তাহলে সেটি মানসিক চাপে থাকার ইঙ্গিত হতে পারে।
৩. ঘুম ও খাওয়ার অভ্যাস বদলে যাওয়াঃ দুঃস্বপ্ন দেখা, মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া, ঠিকমতো ঘুম না হওয়া বা খাওয়ার প্রতি অনীহা- এগুলোও বুলিংয়ের কারণে হতে পারে। দীর্ঘদিন এমন চললে শিশুর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৪. পড়াশোনায় আগ্রহ কমে যাওয়াঃ হঠাৎ পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়া, পড়াশোনায় মন না বসা বা স্কুলের কাজ করতে না চাওয়া অনেক সময় মানসিক চাপের লক্ষণ। তাই শুধু বকাঝকা না করে এর কারণ জানার চেষ্টা করুন।
৫. শরীরে আঘাতের দাগ বা জিনিসপত্র নষ্ট হওয়াঃ বারবার শরীরে আঁচড়, কালশিটে দাগ, ছেঁড়া ইউনিফর্ম, নষ্ট ব্যাগ বা হারিয়ে যাওয়া বই-খাতা ও টিফিন বক্সকে কখনও হালকাভাবে নেবেন না। এগুলোর পেছনে বুলিংয়ের ঘটনা থাকতে পারে।
৬. আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়াঃ শিশু যদি নিজেকে ছোট মনে করতে শুরু করে, বন্ধুদের এড়িয়ে চলে, সবসময় ভয় বা উদ্বেগে থাকে, তাহলে দ্রুত তার সঙ্গে কথা বলুন। প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন।
অভিভাবকদের কী করা উচিত? প্রথমেই সন্তানের কথা ধৈর্য ধরে শুনুন। তাকে দোষ দেবেন না বা বলবেন না, 'এগুলো তো ছোটখাটো ব্যাপার।' এতে সে আরও গুটিয়ে যেতে পারে। বরং তাকে বুঝিয়ে বলুন যে সে নিরাপদ এবং আপনি সবসময় তার পাশে আছেন।
এরপর স্কুলের শিক্ষক, ক্লাস টিচার বা স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করুন। বুলিং বন্ধ করতে স্কুলেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। যদি দেখেন শিশুর মানসিক অবস্থা খারাপ হচ্ছে, সে অতিরিক্ত ভয় পাচ্ছে বা বিষণ্ন হয়ে পড়ছে, তাহলে শিশু মনোবিদ বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
শিশুর সঙ্গে প্রতিদিন কিছুটা সময় কাটান। তার স্কুলের অভিজ্ঞতা, বন্ধুদের কথা এবং সারাদিন কী হয়েছে, তা জানতে চান। এতে সে ধীরে ধীরে নিজের সমস্যার কথা খুলে বলতে শিখবে। সময়মতো বুলিং চিহ্নিত করা গেলে শিশুকে মানসিক আঘাত, উদ্বেগ ও আত্মবিশ্বাস হারানোর মতো গুরুতর সমস্যা থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
















