দিনের শেষে অনেকেরই পা বা গোড়ালি একটু ফুলে যায়। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করা, অনেকক্ষণ বসে থাকা বা বেশি হাঁটাচলার কারণে এমনটা হতে পারে। তবে যদি বারবার পা ফুলে যায় বা ফোলাভাব সহজে না কমে, তাহলে সেটিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। কারণ এটি শরীরের কোনও গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাকে এডিমা বলা হয়। অর্থাৎ শরীরের টিস্যুর মধ্যে অতিরিক্ত তরল জমে যাওয়ার ফলে পা, গোড়ালি বা পায়ের পাতায় ফোলাভাব দেখা দেয়। কেন বারবার পা ফুলে যায়? আসুন জেনে নেওয়া যাক-

* দীর্ঘক্ষণ বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা যারা অফিসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে কাজ করেন বা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকেন, তাঁদের পায়ে রক্ত ও তরল জমে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে।

* অতিরিক্ত নুন খাওয়া খাবারে বেশি নুন থাকলে শরীরে জল জমে যায়। এর ফলে হাত-পা ফুলে যাওয়ার সমস্যা হতে পারে।

* গর্ভাবস্থায় শরীরে হরমোনের পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত তরল জমার কারণে অনেক মহিলার পা ফুলে যায়। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক, তবে হঠাৎ খুব বেশি ফোলাভাব হলে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

* হৃদযন্ত্র ঠিকমতো রক্ত পাম্প করতে না পারলে শরীরে তরল জমতে শুরু করে। এর প্রভাব প্রথমে পা ও গোড়ালিতে দেখা যায়।

* কিডনির রোগ কিডনি ঠিকভাবে কাজ না করলে শরীরের অতিরিক্ত জল ও বর্জ্য বের হতে পারে না। ফলে পা, মুখ বা হাত ফুলে যেতে পারে।

* লিভারের সমস্যা লিভারের কিছু রোগের কারণেও শরীরে জল জমে পা ফুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

* শিরার সমস্যা পায়ের শিরায় রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হলে বা রক্ত জমাট বাঁধলে (ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস) এক বা দুই পায়ে ফোলাভাব হতে পারে। এটি জরুরি চিকিৎসার বিষয়।

কখন অবহেলা করবেন না? পা ফুলে যাওয়ার সঙ্গে যদি নিচের কোনও লক্ষণ থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান। যেমন- শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, এক পা হঠাৎ ফুলে যাওয়া, তীব্র ব্যথা, পা লাল হয়ে যাওয়া বা গরম লাগা, জ্বর। এসব উপসর্গ গুরুতর রোগের ইঙ্গিত হতে পারে।

কী করলে উপকার পাবেন? দীর্ঘক্ষণ একভাবে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকবেন না, মাঝেমধ্যে হাঁটাচলা করুন, বিশ্রামের সময় পা একটু উঁচু করে রাখুন, খাবারে নুন কম খান, পর্যাপ্ত জল পান করুন, নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও ওষুধ খাবেন না।

মাঝেমধ্যে পা ফুলে যাওয়া সবসময় চিন্তার কারণ নয়। কিন্তু যদি এই সমস্যা বারবার হয়, দীর্ঘদিন ধরে থাকে বা অন্য কোনও উপসর্গের সঙ্গে দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সময়মতো কারণ জানা গেলে হৃদরোগ, কিডনি বা লিভারের মতো গুরুতর অসুখও দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব। তাই বারবার পা ফুলে যাওয়াকে কখনওই সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাবেন না।