কোষ্ঠকাঠিন্য এমন একটি সমস্যা, যা এখন সব বয়সের মানুষের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে। অনেকক্ষণ বসে কাজ করা, কম জল খাওয়া, অনিয়মিত খাবার, ফাস্ট ফুড বেশি খাওয়া এবং শরীরে ফাইবারের অভাব, এসব কারণেই এই সমস্যা বাড়ছে। এর সঙ্গে পেট ফাঁপা, গ্যাস, পেট ভারী লাগা এবং ঠিকমতো মলত্যাগ না হওয়ায় সারাদিন অস্বস্তি লেগেই থাকে।

শুধু ওষুধের উপর নির্ভর না করে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কয়েকটি ফল রাখলেই অনেকটা উপকার পাওয়া যায়। এই ফলগুলিতে রয়েছে প্রচুর ফাইবার, জল এবং এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান, যা হজম ভাল রাখতে সাহায্য করে।

কিউইঃ কোষ্ঠকাঠিন্য কমানোর জন্য কিউইকে অন্যতম সেরা ফল বলা হয়। এতে প্রচুর ফাইবার রয়েছে। এছাড়া এতে থাকা অ্যাকটিনিডিন নামের একটি প্রাকৃতিক এনজাইম খাবার দ্রুত হজম করতে সাহায্য করে। ফলে মল নরম হয় এবং সহজে বেরিয়ে আসে। যাঁদের প্রায়ই পেট ফেঁপে থাকে, তাঁদের জন্যও কিউই উপকারী।

পেঁপেঃ পেঁপে বহুদিন ধরেই হজমের জন্য উপকারী ফল হিসেবে পরিচিত। এতে থাকা প্যাপেইন এনজাইম খাবার হজম করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে প্রচুর জল ও ফাইবার থাকায় অন্ত্র পরিষ্কার থাকে। প্রতিদিন এক বাটি পাকা পেঁপে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য অনেকটাই কমতে পারে।

নাশপাতিঃ নাশপাতিতে রয়েছে ফাইবার এবং সরবিটল নামে একটি প্রাকৃতিক উপাদান। এটি অন্ত্রে জল ধরে রাখতে সাহায্য করে, ফলে মল শক্ত হয় না। যাঁদের নিয়মিত কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা রয়েছে, তাঁরা খাদ্যতালিকায় নাশপাতি রাখতে পারেন।

আপেলঃ 'রোজ একটি আপেল চিকিৎসকের থেকে দূরে রাখে', এই কথার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। আপেলের খোসায় থাকা পেকটিন নামের দ্রবণীয় ফাইবার অন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। তাই আপেল খাওয়ার সময় সম্ভব হলে খোসাসহ খাওয়াই ভাল।

ড্রাগন ফলঃ ড্রাগন ফলে প্রচুর ফাইবার ও প্রিবায়োটিক উপাদান রয়েছে। এগুলি অন্ত্রের ভাল ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ায় এবং হজমশক্তি উন্নত করে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেট ফাঁপার সমস্যা কমতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ফল খেলেই হবে না। প্রতিদিন অন্তত ২ থেকে ৩ লিটার জল পান করতে হবে। নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করতে হবে। শাকসবজি, ডাল, ওটস এবং অন্যান্য ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার বেশি খেতে হবে। একইসঙ্গে অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত, ভাজাভুজি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব কম খাওয়াই ভাল।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন? যদি কয়েক সপ্তাহ ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে, মলত্যাগের সময় রক্ত বের হয়, তীব্র পেটব্যথা হয়, হঠাৎ ওজন কমে যায় বা সমস্যা বারবার ফিরে আসে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ অনেক সময় কোষ্ঠকাঠিন্য কেবল হজমের সমস্যা নয়, এটি অন্ত্র বা অন্যান্য শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণও হতে পারে।

সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত জল পান এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে জীবনযাত্রায় ছোট ছোট পরিবর্তন আনাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।