সমাজমাধ্যমে নিত্যদিন ভাইরাল হচ্ছে হরেক বিষয়। সম্প্রতি সেই তালিকায় নয়া সংযোজন কেরালার এক বিশেষ পানীয়—হালকা গোলাপি রঙের জল। অনেকেই প্রথম দেখায় ভেবেছেন, এটি হয়তো কোনও কৃত্রিম রং মেশানো পানীয় বা নতুন কোনও ফ্যাশন ট্রেন্ড। কিন্তু বাস্তবে এই পানীয়টির নাম পাথিমুগাম ওয়াটার বা স্যাপন ওয়াটার, যা কেরলের মানুষের কাছে বহু পুরনো ও পরিচিত এক ঐতিহ্যবাহী পানীয়।
এই গোলাপি পানীয়র মূল উপাদান হল পাথিমুগাম গাছের কাঠ। ইংরেজিতে একে বলা হয় 'স্যাপন উড'। এই কাঠের ছোট ছোট টুকরো জল ফোটালে জল স্বাভাবিকভাবেই হালকা গোলাপি বা লালচে রং হয়ে যায়। এতে কোনও কৃত্রিম রং, চিনি বা রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক কারণেই জলের রং বদলায়।
কেরলের বহু বাড়িতে এবং স্থানীয় রেস্তরাঁয় খাবারের সঙ্গে এই পাথিমুগাম ওয়াটার পরিবেশন করা হয়। বিশেষ করে গরমের দিনে এটি খুবই জনপ্রিয়। পানীয়টির স্বাদ খুবই হালকা এবং সহজপাচ্য। কেউ কেউ এতে আদা, জিরে বা এলাচ যোগ করে স্বাদ বাড়ান।
স্থানীয়দের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পানীয়তে রয়েছে একাধিক স্বাস্থ্যগুণ। প্রথমত এটি হজমে সাহায্য করে। ভারী বা তেল-মশলাযুক্ত খাবারের পর এই জল খেলে পেটের সমস্যা কম হয় বলে মনে করা হয়। দ্বিতীয়ত এই পানীয় শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে, যা কেরলের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় বিশেষভাবে উপকারী।
এছাড়াও অনেকে মনে করেন, পাথিমুগাম ওয়াটারে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের গুণ, যা শরীরের ভেতর পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। কেউ কেউ এটিকে রক্ত পরিষ্কার করার পানীয় বলেও উল্লেখ করেন। যদিও এসব উপকারিতা নিয়ে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের পক্ষে নিশ্চিত প্রমাণ নেই, তবুও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই পানীয় ব্যবহার করে আসছেন স্থানীয় মানুষ।
এই পানীয় তৈরি করাও খুব সহজ। কয়েক টুকরো পাথিমুগাম কাঠ জলে দিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ফুটিয়ে নিলেই জল রং বদলে নেয়। এরপর ছেঁকে নিয়ে গরম বা ঠান্ডা, যেভাবে ইচ্ছা পান করা যায়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার ফলে বর্তমানে এই গোলাপি জল নতুন করে পরিচিতি পেয়েছে। তবে কেরলের মানুষের কাছে এটি কোনও নতুন ট্রেন্ড নয়, বরং দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী, প্রাকৃতিক ও বিশ্বাসভিত্তিক পানীয়। এই গোলাপি জল শুধু দেখতে আকর্ষণীয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক জীবনযাপনের গল্প। নতুন ট্রেন্ডের আড়ালে এটি আসলে এক পুরনো ঘরোয়া পানীয়, যা আজও ওই এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ।
