অভিনেত্রী তথা সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত সম্প্রতি জানিয়েছেন, তিনি নিয়মিত রুপোর গ্লাসে জল পান করেন। তাঁর মতে, আয়ুর্বেদে রুপোকে শীতল প্রকৃতির ধাতু হিসেবে ধরা হয়, তাই এটি শরীরের ‘পিত্ত’ বা অতিরিক্ত তাপের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। 

কঙ্গনার এই মন্তব্যের পর অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে, রুপোর গ্লাসে জল খেলে কি সত্যিই শরীরের উপকার হয়? নাকি এটি ভ্রান্ত ধারণ? আসুন জেনে নেওয়া যাক-

আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, মানুষের শরীর তিন ধরনের দোষ বা শক্তির ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করে। বাত, পিত্ত ও কফ। এর মধ্যে পিত্তের সঙ্গে শরীরের তাপ, হজমশক্তি ও বিপাকক্রিয়ার সম্পর্ক রয়েছে।

আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে, পিত্ত বেড়ে গেলে শরীরে অম্লতা, জ্বালাপোড়া, অতিরিক্ত ঘাম, রাগ বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। রুপোর পাত্রে জল পান করলে শরীরে কিছুটা শীতল প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্বাস করা হয়।

তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এই বিষয়ে কিছুটা ভিন্ন মত দেয়। পুষ্টিবিদদের মতে, রুপোর মধ্যে কিছু অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বা জীবাণুরোধী গুণ থাকতে পারে। অর্থাৎ রুপোর পাত্রে রাখা জলে কিছু জীবাণুর বৃদ্ধি কম হতে পারে। কিন্তু রুপোর গ্লাসে জল খেলে শরীরের পিত্ত নিয়ন্ত্রণ হবে বা বিশেষ কোনও স্বাস্থ্যসমস্যা দূর হবে, এমন দাবি প্রমাণ করার মতো জোরালো বৈজ্ঞানিক গবেষণা এখনও নেই।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, রুপোর গ্লাসে জল খেতে চাইলে অবশ্যই খাঁটি ও ভাল মানের রুপো ব্যবহার করা উচিত। অনেক সময় বাজারে ভেজাল বা অন্য ধাতু মেশানো পাত্র পাওয়া যায়, যা দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে।

আসলে সুস্থ থাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা। আপনি কাচ, স্টিল, মাটির বা রুপোর—যে পাত্রেই জল খান না কেন, শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী জল পান করাই বেশি জরুরি। পাশাপাশি সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ কম রাখাও ভাল স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজন।

তাই রুপোর গ্লাসে জল পান করা একটি ঐতিহ্যবাহী অভ্যাস হতে পারে, এবং এতে কিছু সীমিত উপকারও থাকতে পারে। তবে এটিকে অলৌকিক স্বাস্থ্যরক্ষার উপায় মনে করা ঠিক নয়।

সুস্থ থাকার মূল মন্ত্র এখনও সেই পুরোনো অর্থাৎ সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত জল এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন।