শরীর ও যৌনতা নিয়ে আলোচনা যতই আধুনিক হোক, হস্তমৈথুন এখনও বহু মানুষের কাছে অস্বস্তির বিষয়। সমাজের নানা ভুল ধারণা, গুজব আর অপরাধবোধের মাঝেই এই স্বাভাবিক অভ্যাসকে ঘিরে তৈরি হয়েছে অসংখ্য প্রশ্ন। ঠিক কতটা স্বাভাবিক? আর কখন তা উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে, এই নিয়েই স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে চিকিৎসাবিজ্ঞান।

চিকিৎসক ও গবেষকদের মতে,হস্তমৈথুন মানুষের স্বাভাবিক যৌন আচরণেরই অংশ। এটি শুধু যৌন তৃপ্তি দেয় না, বরং মানসিক চাপ কমাতে এবং নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেও সাহায্য করে। তবুও  হস্তমৈথুন “কতবার করা উচিত” এই প্রশ্নের কোনও নির্দিষ্ট উত্তর নেই। কারণ, এর কোনও নির্ধারিত মাত্রা বা ‘নরমাল ফ্রিকোয়েন্সি’ নেই বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ব্যক্তি বিশেষে এর হার আলাদা—কেউ নিয়মিত, কেউ মাঝেমধ্যে, আবার কেউ একেবারেই করেন না।

তবে ‘অতিরিক্ত’ শব্দটি এখানে সংখ্যার উপর নির্ভর করে না, বরং প্রভাবের উপর নির্ভর করে। যদি হস্তমৈথুনের অভ্যাস দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে, শারীরিক অস্বস্তি তৈরি করে, সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলে বা মানসিকভাবে অস্থির করে তোলে, তখনই তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এর বাইরে, শুধু বেশিবার করা মানেই তা ক্ষতিকর—এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই! 

গবেষণায় আরও একটি আকর্ষণীয় প্রবণতা সামনে এসেছে। দেখা গিয়েছে, মহিলারা সাধারণত তখনই বেশি হস্তমৈথুন করেন, যখন তাঁদের যৌনজীবন ঠিকঠাক থাকে অর্থাৎ এটি তাঁদের যৌন অভিজ্ঞতাকে সম্পূরক করে। অন্যদিকে, পুরুষদের ক্ষেত্রে অনেক সময় ছবিটা পুরোপুরি উল্টো। যখন পুরুষদের যৌনতা কম হয় অথবা যৌনজীবন আনন্দদায়ক নয়, তখন হস্তমৈথুনের প্রবণতা বাড়ে। যদিও এই প্রবণতা সবার ক্ষেত্রে এক নয়।

স্বাস্থ্যগত প্রভাবের দিক থেকেও আশ্বস্ত করছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘমেয়াদে হস্তমৈথুনের ফলে শরীরে কোনও ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে, হস্তমৈথুনের ফলে নিয়মিত বীর্যস্খলন পুরুষদের প্রোস্টেট স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অনুযায়ী, পুরুষেরা হস্তমৈথুন করলে প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি কমে। গবেষণা অনুসারে, পুরুষদের মধ্যে ঘন ঘন বীর্যপাত তাঁদের প্রস্টেটের মধ্যে তৈরি হওয়া ব্যাক্টেরিয়া এবং টক্সিনগুলিকে বার করে দিতে সাহায্য করে। তবে গবেষকরা এও বলেছেন যে, হস্তমৈথুনই প্রস্টেট ক্যানসার ঠেকিয়ে রাখার একমাত্র উপায় নয়। 

সব মিলিয়ে বার্তাটা স্পষ্ট যে হস্তমৈথুন কোনও অস্বাভাবিক বা ক্ষতিকর অভ্যাস নয়। বরং এটি ব্যক্তিগত, স্বাভাবিক এবং নিরাপদ, যতক্ষণ না তা জীবনের অন্য ক্ষেত্রগুলিকে প্রভাবিত করছে। অস্বস্তি, ব্যথা বা স্বাভাবিক আচরণগত নিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো সমস্যা দেখা দিলে তবেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

যৌনতা নিয়ে খোলামেলা ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা যত বাড়বে, ততই কমবে অযথা ভয়—এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


ডিসক্লেইমার: হস্তমৈথুনের কারণে যদি শারীরিক আঘাত, উদ্বেগ, মানসিক চাপ বা নিয়ন্ত্রণহীন আচরণের লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।