সারাদিনের ব্যস্ততা, ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফিরতে না ফিরতেই চোখ জুড়িয়ে আসে ঘুমে। কিন্তু রাতের খাবার খেয়ে বিছানায় আসতেই অদ্ভুতভাবে উধাও হয়ে যায় ঘুম। সারা রাত বিছানায় এ পাশ-ও পাশ করেও দু’চোখের পাতা এক করা যায় না। এদিকে দিনভর থাকে ঝিমুনি, ঘুম ঘুম ভাব। কিন্তু তখন তো আর ঘুমের উপায় নেই। এই সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। কিন্তু ঠিক কী কারণে এমন হয়? অজান্তে শরীরে বড় রোগ বাসা বাঁধছে না তো! জেনে নেওয়া যাক-
এই সমস্যার সবচেয়ে বড় কারণ হল স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তা। সারাদিনের কাজের চাপ, ভবিষ্যতের চিন্তা বা ব্যক্তিগত সমস্যা মাথার ভিতরে ঘুরতেই থাকে। আপনি শুয়ে পড়লেও মস্তিষ্ক তখনও সক্রিয় থাকে। ফলে শরীর ক্লান্ত হলেও ঘুম আসতে দেরি হয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল হরমোনের সমস্যা। আমাদের শরীরে কর্টিসল নামে একটি স্ট্রেস হরমোন রয়েছে। এটা বেশি হলে শরীর সতর্ক অবস্থায় থাকে। আবার মেলাটোনিন নামে একটি হরমোন রয়েছে, যা ঘুম আনতে সাহায্য করে। এই দুইয়ের ভারসাম্য নষ্ট হলে ঘুমের সমস্যা হয়।
ঘুমের সময় ঠিক না থাকাও বড় কারণ। কখনও দেরি করে ঘুমানো, কখনও তাড়াতাড়ি-এই অভ্যাস শরীরের 'বডি ক্লক' নষ্ট করে দেয়। ফলে শরীর বুঝতেই পারে না কখন ঘুমোতে হবে। এছাড়া আমাদের দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসও দায়ী। যেমন- রাতে মোবাইল বা ল্যাপটপ বেশি ব্যবহার করা, ঘুমানোর আগে চা বা কফি খাওয়া, দেরিতে ভারী খাবার খাওয়া, বিশেষ করে মোবাইলের স্ক্রিন থেকে বের হওয়া নীল আলো ঘুমের হরমোন কমিয়ে দেয়। ফলে ঘুম আসতে সমস্যা হয়।
কিছু ক্ষেত্রে এই সমস্যা দীর্ঘদিন চললে তা অনিদ্রার লক্ষণও হতে পারে। আবার ডিপ্রেশন, উদ্বেগ বা অন্য শারীরিক সমস্যার কারণেও এমন হতে পারে।
এই সমস্যা থেকে স্বস্তি পেতে কী করবেন? সহজ কিছু অভ্যাস বদলালেই অনেকটা উপকার পাওয়া যায়। যেমন প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান এবং উঠুন, ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে মোবাইল-টিভি বন্ধ রাখুন, সন্ধের পর চা বা কফি কমান, হালকা গান শোনা বা বই পড়ার মতো রিল্যাক্সিং কাজ করুন, ঘুম না এলে জোর করে শুয়ে না থেকে একটু উঠে শান্ত কিছু করুন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ঘুমের মান ঠিক রাখা। শুধু বেশি সময় ঘুমালেই হবে না, ভাল ঘুম হওয়াও জরুরি। যদি অনেকদিন ধরেই এমন সমস্যা থাকে, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ ঠিকমতো ঘুম না হলে শরীর ও মনের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।















