বিয়েবাড়ি, কোনও অনুষ্ঠান, ভ্রমণ বা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ—এমন অনেক সময় আসে যখন কয়েক দিন টানা ঘুমানোর সময় হয় না। ফলে ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব, খিটখিটে মেজাজ এবং কাজের দক্ষতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতির জন্য আগে থেকেই শরীরকে প্রস্তুত করা সম্ভব। এই পদ্ধতিকেই বলা হয় ‘স্লিপ ব্যাঙ্কিং’।

স্লিপ ব্যাঙ্কিং বলতে বোঝায়, ভবিষ্যতে কয়েক দিন কম ঘুম হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে তার আগে কয়েক দিন অতিরিক্ত ঘুমিয়ে নেওয়া। অর্থাৎ ঘুমকে যেন আগাম সঞ্চয় করে রাখা। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পর্যাপ্ত বা একটু বেশি ঘুমিয়ে রাখলে পরবর্তী ঘুমের ঘাটতির প্রভাব কিছুটা কমানো সম্ভব।

ধরুন, আপনার বাড়িতে বিয়ে বা কোনও বড় অনুষ্ঠান রয়েছে। আপনি জানেন আগামী কয়েক দিন রাতে জাগতে হবে। সেক্ষেত্রে অনুষ্ঠানের এক সপ্তাহ আগে থেকেই প্রতিদিন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ১ থেকে ২ ঘণ্টা বেশি ঘুমানোর চেষ্টা করতে পারেন। এতে শরীর কিছুটা বিশ্রাম সঞ্চয় করে রাখে এবং পরবর্তী ব্যস্ততার ধাক্কা তুলনামূলকভাবে ভালভাবে সামলাতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্লিপ ব্যাঙ্কিং শুধু ক্লান্তি কমাতেই সাহায্য করে না, একইসঙ্গে মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং কর্মক্ষমতাও কিছুটা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। যারা দীর্ঘ ভ্রমণ, পরীক্ষার প্রস্তুতি, শিফট ডিউটি বা বিশেষ কোনও প্রকল্পের জন্য রাত জাগেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও এই কৌশল উপকারী হতে পারে।

একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। স্লিপ ব্যাঙ্কিং মানে এই নয় যে আপনি দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি পূরণ না করেও সুস্থ থাকতে পারবেন। এটি কেবল অস্থায়ীভাবে শরীরকে প্রস্তুত রাখার একটি উপায়। দীর্ঘ সময় ধরে কম ঘুমালে শরীর ও মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বেই।

চিকিৎসকরা সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেন। তাই যদি সামনে ব্যস্ত সময় থাকে, তাহলে আগে থেকেই পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার চেষ্টা করুন। একইসঙ্গে ক্যাফেইন কম খাওয়া, নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং মোবাইলের ব্যবহার কমানোর মতো অভ্যাসও ভাল ঘুম পেতে সাহায্য করে।

সামনের দিনগুলোতে রাত জাগার সম্ভাবনা থাকলে ‘স্লিপ ব্যাঙ্কিং’ হতে পারে একটি কার্যকর উপায়। এতে শরীর কিছুটা বেশি সতেজ থাকে এবং ব্যস্ততার মধ্যেও ক্লান্তি তুলনামূলকভাবে কম অনুভূত হতে পারে। তবে সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের কোনও বিকল্প নেই।